Home কুষ্টিয়া অডিও ফাঁসের ঘটনায় ইবির প্রকৌশল অফিসে ভাঙচুর, বিচার দাবি

অডিও ফাঁসের ঘটনায় ইবির প্রকৌশল অফিসে ভাঙচুর, বিচার দাবি

111

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে অজ্ঞাত এক ছাত্রীর অশালীন ফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর রাতে ৬ মিনিট ২১ সেকেন্ডের অডিওটি ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অডিওটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুলের বলে অভিযোগ ওঠে। এতে খুশি করতে পারলে পড়ালেখা শেষে ওই ছাত্রীকে চাকরি পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয় টুটুল। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে টুটুলের বিচার দাবিতে প্রধান প্রকৌশলীর অফিস ভাঙচুর, অফিসের প্রধান ফটকে তালাসহ উপাচার্য বরারব স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এসময় এক ঘণ্টা অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়েছে প্রধান প্রকৌশলীকে। পরে উপাচার্যের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন।

তথ্য মতে, গত ১৫ নভেম্বর রাতে ‘ইবির নিউজ’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে প্রকৌশলী টুটুলের ৬ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অডিও ফাঁসের তিনদিন পার হলেও কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত টুটুলের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রকৌশল ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ অবস্থান করে প্রধান প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে অভিযুক্ত টুটুলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বললে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে প্রধান প্রকৌশলীর অফিস ভাঙচুর করে। পরে তাকে রুমের মধ্যে রেখেই অফিসের নিচে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় ১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়েছে তাকে। পরে একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ অবস্থান করে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়। এসময় অভিযুক্ত টুটুলের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করেছে তারা।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুটুলের ৬ মিনিট ২১ সেকেন্ডের আপত্তিকর অডিও ক্লিপ ফাঁস হয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের বিব্রত করছে এবং একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বিনষ্ট করছে। এছাড়া এর আগেও ২০১৩ সালে কুষ্টিয়ার এক শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা হলে তিনি গ্রেপ্তার হন ও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, প্রায় ২৫-৩০জন শিক্ষার্থী আমার অফিসে এসে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাকে প্রকৌশলী টুটুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আলমারির কাচ ভাঙচুর করে ও দরজায় লাথি মারে। এসময় তারা ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেয়। এতে আমি প্রায় ১ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি। পরে আমি বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করলে শিক্ষার্থীরা এসে তালা খুলে দেয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ প্রকৌশল অফিসকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।