Home কুষ্টিয়া আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিতে শ্রেষ্ঠ স্থানে মিরপুর থানা

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিতে শ্রেষ্ঠ স্থানে মিরপুর থানা

25

কুষ্টিয়ার জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম যোগদান করার পর থেকে জেলা জুড়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়। জেলার প্রতিটি থানায় নিয়মিত মাদক উদ্ধার, আন্ত:জেলা ডাকাত, অস্ত্র উদ্ধার সহ সকল পুলিশি কার্যক্রমে খুশি জেলাবাসী। কিন্তু ব্যতিক্রম মিরপুর থানা। মিরপুর থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ রাশেদ যোগদানের পর থেকে মিরপুর থানা এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।

উল্ল্যেখযোগ্য কোন আসামী আটক, মাদক উদ্ধারসহ পুলিশিং কোন কার্যক্রমই গতিশীল নয়। মিরপুর হতে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব),মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা মাদক উদ্ধার করছে। কিন্তু এদিকে মিরপুর থানা পুলিশ আছে নির্বাক দর্শকের ভূমিকায়।

তথ্য অনুসারে, কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে মিরপুর থানায় কেউ অভিযোগ দিলে বাদী এবং বিবাদী দুই গ্রুপকে থানায় ডেকে দরবারের মাধ্যমে তা মিমাংশা করা হয়। সেখানে চলে টাকার লেনদেন। এই ঘটনা প্রতিদিনের।
মিরপুর থানার হল রুমে প্রতিদিন চলে এই দরবার এবং টাকার লেনদেন। টাকা যে বেশি দেবে দরবারে তার পক্ষে বিচার হবে।

মিরপুর উপজেলা এলাকাজুড়ে বেড়ে গেছে চুরির ঘটনা । স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, গবাদিপশু, মোটরসাইকেল, বৈদ্যুতিক মটর, পাখিভ্যান, বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন- জিনিস চুরির এমন ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই ।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উপজেলা এলাকার একাধিক ভুক্তভোগীর। এই উপজেলা এলাকায় গেল চার মাসে প্রায় দেড় শতাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও একটি ঘটনাও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ ।

সবশেষ উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক দারার বাড়িতে চুরি ঘটনা ঘটে।

এসময় আসবাবপত্রসহ নগত টাকা চুরি করে নিয়ে যান চোর দলের সদস্যরা । এদিকে এ অবস্থায় চুরি ঘটনা ঘটলেও আগে মতো থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে দ্বারস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা ।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, আগের মতো উপজেলা এলাকায় পুলিশের টহল ও তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দিকে সময় ব্যয় না করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে । বিষয়টির দিকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন উপজেলা এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার । চোর দলের সদস্যদের ধরতে দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে মিরপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল করিম বলেন, চুরির ঘটনা নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি । মাসিক মিটিং এ বিষয়টি নিয়ে বার বার কথা বলেছি আমরা। গত ৪ মাসে এই উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে একটি চুরির ঘটনাও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এটা আইনশৃঙ্খলার অবনতি। দ্রুত চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা বাড়াতে দাবি জানান তিনি ।

এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাশেদুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি ।