Home বাংলাদেশ আহমাদিয়া ফাইনান্সের বিরুদ্ধে ১১ শ’ গ্রাহকের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের...

আহমাদিয়া ফাইনান্সের বিরুদ্ধে ১১ শ’ গ্রাহকের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের রাতভর বিক্ষোভ

103

আহমাদিয়া ফাইনান্সের বিরুদ্ধে ১১ শ’ গ্রাহকের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের রাতভর বিক্ষোভ

হাজারো গ্রাহকের শতকোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে আহমেদিয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুরে ভুক্তভোগীরা প্রতিষ্ঠানটির সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে নানা অজুহাতে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে প্রতারিত করে আসছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মনির আহমেদ। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজারকে অবরুদ্ধ করে রাতভর বিক্ষোভ করেছে তারা।

এ ব্যাপারে মামলা হলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে নানা অজুহাতে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না প্রতিষ্ঠানটির মালিক মনির আহমেদ।

বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া কান্নারত অবস্থায় বললেন, সংসার ভেঙে গেছে।আমরা কোনোভাবে বাঁচতে পারছি না।

এ যেন আহমাদিয়া ফাইনান্স অ্যান্ড কমার্স লিমিটেডে টাকা জমা দিয়ে যিনি অকূল পাথারে পড়েছেন সুলতানা রাজিয়া। জানালেন, জিডি করেছেন তিনি। এরপর, টাকা দেবে বলে বলে ঘুরাচ্ছেন তাকে।

শরবত বিক্রি করে একটু একটু করে ৫ বছর ধরে টাকা জমিয়েছেন আবদুল কুদ্দুস। কথা ছিল এই টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান করে মেয়েকে পাঠাবেন শ্বশুরবাড়ি। তবে সেই স্বপ্নে আজ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা।

এক নারী বলেন, আমার স্বামী এই টাকার যন্ত্রণায় স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

মো. আব্দুল জলিল নামের এক মেকানিকও সুলতানা রাজিয়ার মতো ভুক্তভোগী। সময়মতো টাকা না পাওয়ায় মেয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল জলিল। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে জেনারেল ম্যানেজারের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। তবে সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম।

প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল অবরুদ্ধ থাকলেও লাপাত্তা প্রতিষ্ঠানের মালিক মনির আহমেদ। তার ব্যাপারে কিছু জানে না পুলিশও।

প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ৩২ কোটি টাকা ফ্ল্যাটে অ্যাডজাস্টমেন্ট করে দিছি। এ সম্পদগুলো তাদের। বাকিগুলোও অ্যাডজাস্টমেন্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর ছোটগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লিয়ার করে এটা ক্লোজড করে দেব বলতেছি।

এবিষয়ে মামলা করতে বলেছি কিন্তু তাদের একটাই কথা, মামলা করলে টাকা পাবো না। এমডিকে এনে দেন। আমরা উনার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। ফোন ধরছে না।কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেছেন।

প্রায় ১৫ বছর ধরে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিভিন্ন উপায়ে সঞ্চয়পত্র ও এফডিআইআরের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করতো আহমাদিয়া ফাইনান্স অ্যান্ড কমার্স। শুরুতে লভ্যাংশ ও মুনাফার কিছু টাকা গ্রাহকদের দেয়া হলেও ধীরে ধীরে সুর পাল্টায় প্রতিষ্ঠানের কর্তারা। এগারোশো গ্রাহকের ৯৮ কোটি টাকা আটকে রেখে প্রতিষ্ঠানের মালিক মনির আহমেদ চালু করেন ইউরো স্টার নামের নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করেন।

বারবার টাকা ফেরত চেয়ে না পেলে গতকাল সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে আহমাদিয়া ফাইনান্স অ্যান্ড কমার্সের অফিসে অনশন শুরু করেছে ভুক্তভোগীরা।