Home কুষ্টিয়া এগিয়ে আছে কাদের-লোটন, ঘুষের গুঞ্জনে হুমায়ুন

এগিয়ে আছে কাদের-লোটন, ঘুষের গুঞ্জনে হুমায়ুন

408

ডেস্ক নিউজ : ১৯৮৪ সালে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরন পর্যায়ে সাবেক মহকুমাগুলোকে জেলায় রূপান্তর করা হলে দেশব্যপী শুরু হয় জেলা পরিষদ কার্যক্রম। এরপর সময়ের আবর্তনে বাংলাদেশে জেলা পরিষদ হয়ে দাড়ায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষদ। পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট সময় পেরুলে আসছে ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন। যদিও এবার সদস্য পদে লড়তে হবে বড় আয়তনে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মানিক দিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট যুদ্ধে দৌলতপুর উপজেলা থেকে লড়বেন মোট ৭ প্রার্থী। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড দৌলতপুরে সদস্য পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন ক্ষমতাসীন দলে উপজেলা পর্যায়ের দুই নেতা সহ আরও দু’জন। সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ী হতে মিরপুর-ভেড়ামারা-দৌলতপুরের ভোটে প্রার্থী হয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মায়াবী রোমান্স মল্লিকসহ আরও দুই নারী। ১৭ অক্টোবর নির্বাচনে ভোটার হিসাবে ভোট প্রদান করবেন উপজেলাটির ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সকল ইউনিয়নের ১শ’ ৬৮ জন নারী-পুরুষ ইউপি মেম্বর ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং দুই ভাইস-চেয়ারম্যান। জেলায় ৪টি ওয়ার্ডে একযোগে ভোটগ্রহন হবে আসছে ১৭ অক্টোবর, এ উপলক্ষেই ভোটের মাঠে দৌলতপুর উপজেলার এক ছোট্ট খবরাখবর।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম আজম জানান, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে, প্রার্থী,ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। গেলবারের তুলনায় এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের উৎসাহ বেড়েছে মনে হচ্ছে।

সদস্য পদে তালা মার্কায় প্রতিদ্বন্দীতা করছেন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের আব্দুল কাদের। উপজেলাব্যাপী পরিচিত মুখ এই সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমান যুবলীগ নেতা। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি। দৌলতপুরে গেলবারের তিন সদস্যের এক সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী লোটন প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ঘুড়ি প্রতীকে। আরও প্রার্থীতা প্রকাশ করেছেন কুয়েত ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান/সংস্থার বাংলাদেশী কো-অর্ডিনেটর দৌলতপুরের যুবক হুমায়ুন কবির ও স্থানীয় দলীল লেখক কাদের মুহুরী।

ভোটের হাওয়ায় রেকর্ডকৃত গুঞ্জনে উঠে আসে– দৌলতপুরে রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারের পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসারে এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রত্যাশীত সরগরম প্রচারণা নেই আসাদুজ্জামান চৌধুরী লোটনের। শোনা যায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও, যদিও সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ছোট্ট পরিসরে হলেও ভোটারদের সাথে সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। লোটন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, ভোটারদের কাছে যাচ্ছি, এবং ইতিবাচক ফলাফলের বিষয়ে আমি আশাবাদী। এসমসয় তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেট ব্যাট প্রতীকের হুমায়ুন কবির মেম্বরদের ডিসকভার আর চেয়ারম্যানদের পালসার মোটরসাইকেলের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট নেয়ার চেষ্টা করছে; সে (হুমায়ুন) যেই বিদেশী প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সেই প্রতিষ্ঠানের বিদেশী টাকা দিয়ে নিজের রাজনীতি গোছানোর ব্যার্থ চেষ্টা করছে।

এদিকে, টিউবওয়েল প্রতীকে দাঁড়ানো আব্দুল কাদের ওরফে কাদের মুহুরীর সাথে কথা বলে জানা গেছে ভোটে তার নড়বড়ে অবস্থানের কথা। ভোটের ক’দিন আগেও নিজেই নিশ্চিত নন তিনি প্রার্থী আছেন কি নেই!। নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা যায়, কাদের মুহুরী নামে পরিচিত ওই ব্যাক্তি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিষয়ে অফিসিয়ালি কোন কিছু জানাননি। ১১ অক্টোবর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন গেছে।

ক্রিকেট ব্যাট প্রতীক নিয়ে সদস্য পদে ভোট করছেন হুমায়ুন কবির। আকস্মিক জনপ্রতিনিধিত্বের নির্বাচনে আসা হুমায়ুন কবিরের কোন রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তার চাকুরীরত প্রতিষ্ঠানের বৈতনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খানেকটা পরিচিতি পেয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। প্রতীক পাওয়ার আগেই ভোটারদের দ্বারে হুমায়ুন কবিরের আর্থিক প্রলোভনের গল্প ছড়িয়ে পড়ে উপজেলাব্যপী। হুমায়ুন সমন্বিত আল-সালেহ লাইফ লাইনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও মুখরোচক পুরনো গল্প নির্বাচন ঘিরে ঝড় তুলেছে চায়ের কাপে। অনেকেই মন্তব্য করে বসছেন– বিদেশী টাকার মনোবলেই হুমায়ুন কবির অংশ নিয়েছেন এই বড় ভোট যুদ্ধে, যেখানে প্রতিদ্বন্দী আছেন লোটন চৌধুরী-আব্দুল কাদেরের মতো ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম গ্রহনযোগ্য নেতারা। বিভিন্ন নির্বাচনী আলাপে ওঠে, যদি কেউ টাকার ওপর ভরসা করে জনপ্রতিনিধিত্বে আসার বৈতরণী পার হতে চাই তবে সে টাকাও জলে যেতে পারে।

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো নিজের প্রতীকে ভোট চাইছেন যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের। নিজের জন্য ভোটারের ভোট ও সকলের দোয়া চাওয়ার দৈনন্দিন ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খানের ভোটের প্রচারণায় সদলবলে অংশ নিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসনীয় মুখ আব্দুল কাদের ভোটারদের কাছেও যেন পাচ্ছেন বাড়তি ভালোবাসা। উপজেলাটির সদর এলাকায় এই যুবলীগ নেতার বসবাস হওয়ায় এখানকার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ ও ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা নানান প্রয়োজনে আব্দুল কাদের ও তার নেতৃত্বাধীনদের আন্তরিক সহযোগিতা-পরামর্শ পেয়ে থাকেন বলেও দীর্ঘ বছরের প্রতিষ্ঠিত জনশ্রুতি রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন মেম্বরের সাথে কথা হলে জানা যায়, তারা আগামীর ভোটে এগিয়ে রাখছেন তালা প্রতীকের আব্দুল কাদেরকেই। তাদের কানেও এসেছে একজন নির্দোলীয় প্রার্থীর ভোট ক্রয়ের চেষ্টার কথা। টাকায় ভোট বিক্রি হলে তালার সাথে ক্রিকেট ব্যাটের প্রতিদ্বন্দীতার কথাও বলছেন কেউ কেউ। আবার কারো মন্তব্য, প্রতিদ্বন্দীতা হবে ক্ষমতাসীন দলের দুই সক্রিয় নেতা লোটন চৌধুরী ও আব্দুল কাদেরের সাথে।

একাধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বক্তব্যেও উঠে আসে তালা মার্কায় যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদেরকে সমর্থনের সুস্পষ্ট কথা।

শেষমেশ, ব্যাপক আলোচিত এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা। খোদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া চেয়ারম্যান,সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের নারীদের।