Home বাংলাদেশ কুমারখালীর যদুবয়রা ক্যাম্প পুলিশের আইসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

কুমারখালীর যদুবয়রা ক্যাম্প পুলিশের আইসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

6

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার অন্তর্গত যদুবয়রা ক্যাম্পের আইসি এসআই বিল্লাল এর বিরুদ্ধে সহজেই কোটিপতি হওয়ার নেশায় অবৈধ উপায়ে অর্থ আয়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই এসব ঘটনার স্বাক্ষী হতে না চাইলেও পরিচয় গোপন করে কেউ কেউ তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত এসআই বিল্লাল তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ক্যাম্প আইসি হওয়ার সুবাদে এসআই বিল্লাল তার উপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেওয়া, অপমৃত্যুর ঘটনায় ময়না তদন্ত বন্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, সুবিধা প্রদানের মিথ্যা আশ্বাসে উভয় পক্ষের থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, মদ ও জুয়ার আসর এবং বালি মহল সহ বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক সুবিধা দিয়ে মাসোহারা উত্তোলন সহ বিভিন্ন ভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ও ভুক্তভোগীদের একজন রাজিয়া খাতুন প্রতিবেদককে জানান, “প্রশাসন আমার কাছ থেকে নিয়ে করেছে আর তার থেকে নিয়ে ভেঙেছে।” তিনি বলেন- তার জমিতে দেড় লক্ষ টাকার বালি ফেলে বাড়ি করতে গেলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজান তাকে বাধা দেয়। বাধা এড়িয়ে আইনগত সুবিধা নিয়ে বাড়ি করার জন্য তিনি স্থানীয় ক্যাম্প আইসির দ্বারস্থ হন। সুবিধা পেতে তাকে উৎকোচ হিসাবে ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে ১০ হাজার টাকাও প্রদান করতে হয়। এরপর যেদিন ঘরের কাজ শুরু করা হয় সেদিন রাতে মিজান চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিতা এসে আমার নির্মাণাধীন বাড়ি ভেঙে দেন। হামলাকারীদের থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এ ঘটনায় ক্যাম্প আইসি তাদেরকে সহযোগিতা করেন। হামলার সময় ক্যাম্প আইসির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর চাকুরী বাঁচাতে হামলার ৩ঘন্টা পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আইসি বিল্লাল। তাছাড়া হামলার সময় স্থাপনা ধ্বংস করার পাশাপাশি হত্যা চেষ্টায় ২টি হাত বোমা নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা। ২টি বোমার মধ্যে ১টি বিস্ফোরণ হলেও আরেকটি বিস্ফোরিত হয় না। বিস্ফোরিত না হওয়া বোমাটি এসআই বিল্লাল ভুক্তভোগীর বাড়িতে পানির মধ্যে রেখে দিয়ে পরে নিয়ে গেলেও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রুজুকৃত মামলায় বোমার বিষয়টি উল্লেখ করেননি তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, গত জুন মাসের ১৯/২০ তারিখের দিন যদুবয়বা পুলিশ ক্যাম্পের এলাকাধীন জয় বাংলা মোড় এলাকায় এক চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত কাঠের দোকানদার সুজনের থেকে ১০হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে তাকে মুক্ত করে দেন ক্যাম্প আইসি এসআই বিল্লাল। গত কয়েক মাস পূর্বে জয়বাংলা মোড় এলাকা থেকে নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে ৭২ পিচ নেশার ট্যাবলেট সহ আটক করে ক্যাম্প পুলিশ। পরবর্তীতে নুরুজ্জামানের থেকে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে দফারফা করেন আইসি বিল্লাল। এখানেই শেষ নয়, ক্যাম্প এলাকাধীন এলঙ্গীর চড় এলাকার ফয়সাল ফকিরের মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। অপমৃত্যুর এই ঘটনায় ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন এসআই বিল্লাল।

প্রাপ্ত তথ্যমতে আরও জানা যায়, গত ১৮ই মে জুয়ার আসর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য বসির মেম্বার সহ তার কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে ক্যাম্প পুলিশ। ঘটনাস্থলে আটককৃত হ্যান্ডকাপ পরানোর পরও নগদ ২০হাজার টাকা বিনিময়ে বিষয়টি দফারফা করে আটককৃতদের মুক্ত করে দেন ক্যাম্প আইসি বিল্লাল। এরপর স্থানীয় বিষয়টি নিয়ে সেসময়ই বিক্ষোভ করে এবং আসামিদের আটক করতে পুলিশকে চাপ দেয়। বাধ্য হয়ে এঘটনায় বসির মেম্বারকে পলাতক দেখিয়ে মামলা রুজু করতে বাধ্য হয় আইসি বিল্লাল।

উপরে উল্লেখিত এরকম কয়েকটি দফারফার ঘটনা ফাঁস হলেও অধিকাংশ ঘটনায় ফাঁসের মুখ দেখেনা। এভাবে প্রতিনিয়ত অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ক্যাম্প আইসি বিল্লাল। অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার নেশায় মত্ত তিনি। এই ঘটনাগুলো ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে মাসোহারা গ্রহণের বেশ কিছু খাতের সন্ধান মিলেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্প এলাকাধীন মানিহার ইজি বাইক স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে ১হাজার, লালন বাজার বালির ঘাট থেকে মাসিক ৫হাজার, আগরাকুন্ডু চড় এলাকার মাদক সম্রাট আজিবরের থেকে মাসিক ১০হাজার ও উপজেলার বাংলা মদের পরিবেশকের থেকে মাসিক ৬হাজার টাকা মাসোহারা নিয়ে থাকেন ক্যাম্প আইসি বিল্লাল। এরকম আরো ঘটনার সন্ধানে প্রতিবেদক দল। পরবর্তীতে সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।

এদিকে এসব বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত যদুবয়রা পুলিশ ক্যাম্প আইসি এসআই বিল্লাল এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের ক্যাম্পের এক এএসআইকে বদলি করা হয়েছে। তিনি তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা প্রচার করে চলেছেন।

অভিযুক্ত ক্যাম্প আইসির বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির আরো তথ্য সহ জেলার পুলিশ সুপার এবং রেঞ্জ ডিআইজির বক্তব্য পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হবে।