Home কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সফল অভিযান, ইজি বাইক চোর চক্রের ছয় সদস্য আটক

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সফল অভিযান, ইজি বাইক চোর চক্রের ছয় সদস্য আটক

15

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সফল অভিযান, ইজি বাইক চোর চক্রের ছয় সদস্য আটক

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খাইরুল আলমের নির্দেশে ৬টি ইজি বাইক, ১টি পাখি ভ্যান উদ্ধার ও ৬ চোরকে আটক করেছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাৎ হোসেন এর নেতৃত্বে তার সঙ্গেও ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ব্যাটারি চালিত অটো চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের এই অভিযানকে কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইজি বাইক ও পাখি ভ্যান তারা চুরি করে। এই চোর চক্রকে অল্প সময়ের ভিতরে গ্রেফতার করার কারণে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে কুষ্টিয়াবাসী। সেই সাথে এই সিন্ডিকেটের সাথে যারা জড়িত আছে তাদেরকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি সাধারণ মানুষের। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে বেলা ২টাই প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের এই চোর চক্রের বিষয়ে জানান তিনি বলেন আমি কুষ্টিয়াবাসীকে জানাতে চাই আপনারা আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। আপনাদেরকে নিরাপদ ও সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারেন সেজন্য আমার পুলিশ সদস্যরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা কখনোই কোনো বিষয় ভয় পাবেন না। সরাসরি আমার সহযোগিতা নিবেন আমার দরজা সবসময় আপনাদের জন্য খোলা।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন
জনি, সবুজ, রনি, তাজুল, সারজেদ ও ইয়াকুব। এদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ৪০ এর মধ্যে। এরা ৬ জনই পেশাদার চোর। কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে ঘুরে ঘুরে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক এবং পাখি ভ্যান চুরি করাই ছিল তাদের পেশা।ছয় জনের মধ্যে চার জনের চোর চক্রটি এরই মধ্যে প্রায় শতাধিক ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক চুরি করে বিক্রি করেছে। অপর দু’জন এ পর্যন্ত প্রায় ১৮-২০ টি পাখি ভ্যান চুরির কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

আজ সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো: খাইরুল আলম সাংবাদিকদের চাঞ্চল্যকর এ কাহিনী তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের একতারা মোড় হতে রাজারহাট এলাকায় যাওয়ার জন্য এক ব্যক্তি হাসিবুল ইসলামের (২২) ব্যাটারি চালিত ইজি বাইকে ওঠেন। রাজার হাট মোড়ে পৌঁছানোর পর ওই যাত্রী তার কাছে থাকা একটি দুধের ব্যাগ ইজি বাইক চালক হাসিবুলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি ইজি বাইকে বসে আছি, তুমি এই দুধের ব্যাগটি ওই বাড়িতে দিয়ে আসো। ’ সরল বিশ্বাসে সে ইজিবাইকটি বন্ধ করে চাবি সাথে নিয়ে দুধের ব্যাগটি ওই বাসায় দিতে যায়। সে কাউকে না পেয়ে দ্রুত ইজিবাইকটির কাছে গিয়ে দেখতে পায় সেটি সেখানে নেই।

এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের হলে ইজি বাইক চোরকে পাকড়াও করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।
পরের দিন পুলিশ যাত্রী সেজে ইজি বাইকে ওঠা চোর শহরের বারখাদা মধ্যপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মোঃ জনি হোসেনকে (২৪) আটক করে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানায়, উক্ত ইজিবাইকটি অপর তিন সহযোগী শহরের চর মিলপাড়া এলাকার মৃত খোকন শেখের ছেলে মো: সবুজ শেখ (২০) এবং আরশেদ (২৫) ও ইমরানকে (২৫) সাথে নিয়ে ইজি বাইকটি চুরি করে।

মিরপুর উপজেলার অঞ্জনগাছী গ্রামের আনারুল ইসলামের (৪৫) ছেলে রনি আহম্মেদর (১৯) কাছে নগদ ৫৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পুলিশ আনারুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চোরাই ইজি বাইকটি উদ্ধার করে এবং রনিকে আটক করে।

কিন্তু এ সময় চোর চক্রের মূল হোতা আনারুল ইসলাম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এর আগে পুলিশ চোর চক্রের অপর সদস্য সবুজ শেখকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জনি পুলিশকে জানায়, কুষ্টিয়া শহরের করিম বক্স লেনের তাজুলের গ্যারাজে কিছুদিন আগে সে চোরাইকৃত একটি ইজি বাইক বিক্রি করেছে। সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালে পুলিশ ওই গ্যারাজে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি চোরাইকৃত ব্যাটারি চালিত ইজি বাইকসহ চোর চক্রের অপর সদস্য নতুন কমলাপুর করিম বক্স লেনের মৃত আজহারুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলামকে (৪০) আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আটককৃতরা পুলিশকে জানায়, তারা ইজি বাইক চুরি করে পিতা-পুত্র আনারুল এবং রনির কাছে বিক্রি করত। ৮-১০ জনের এই চোর চক্রটি এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক চুরি করে পাবনা জেলার শামসুলের কাছে বিক্রি করেছে।এদিকে গত ৬ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি হতে রাশিদুল ইসলামের (৫১) একটি পাখি ভ্যান চুরি হয়। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হলে সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ শহরতলীর বটতৈল এলাকা থেকে চোর চক্রের সদস্য মো: সারজেদকে (২০) আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও একপর্যায়ে সে গত ৬ এপ্রিল আড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে রাশিদুল ইসলামের ব্যাটারি চালিত পাখি ভ্যানটি চুরির কথা স্বীকার করে জানায় বল্লভপুর এলাকার ইয়াকুবের কাছে সে পাখি ভ্যানটি বিক্রি করেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত উক্ত পাখি ভ্যানসহ ইয়াকুবকেও আটক করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াকুব পুলিশকে জানায়, মূলত সে একজন পাখি ভ্যান মেকার। পাখি ভ্যান মেরামতের নাম করে সে দীর্ঘ দিন ধরে চোরাইকৃত পাখি ভ্যান পুনঃরায় রং পাল্টে ক্রয়-বিক্রি করে আসছে। সে একাই ১০-১৫ টি চোরাইকৃত পাখি ভ্যান ক্রয়-বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরো জানায়, এদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন থানায় চুরি ছাড়াও অস্ত্র, মাদক, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে এদেও কাছ থেকে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) মো: ফরহাদ হোসেন খান, কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদত হোসেন, ওসি তদন্ত জহুরুল আলমসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।