Home কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় নজর কাড়ছে রাজাবাবু, কুরবান ও সাদামানিক

কুষ্টিয়ায় নজর কাড়ছে রাজাবাবু, কুরবান ও সাদামানিক

10

কুষ্টিয়ায় নজর কাড়ছে রাজাবাবু, কুরবান ও সাদামানিক

কুষ্টিয়া কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ‘রাজাবাবু’ নামে ষাঁড় লালন-পালন করেই এলাকায় সাড়া ফেলেছেন শারমিন আক্তার ইতি নামে একজন গৃহিণী। ষাঁড়টি বিক্রি করে একটি খামার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন ওই নারী। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের গৃহিণীর পালন করা ষাঁড়টির ওজন ২২ মণের উপরে আর দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। একইভাবে মিরপুরের ‘কুরবান’ ও দৌলতপুরের ‘সাদামানিক’ লালন-পালনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে এলাকায়। দাম হাঁকা হচ্ছে ৭ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী শাহাবুল ইসলামের স্ত্রী ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের খামারি শারমিন আক্তার ইতি ২ বছর ধরে লালন-পালন করছেন ষাঁড়টি। কালো রঙের ২২ মণ ওজনের বিশাল দেহের ষাঁড়টির নাম রাজাবাবু। ষাঁড়টির দাম ৮ লাখ টাকা চাচ্ছেন তিনি।

রাজাবাবু বিক্রি করতে পারলে একটি খামার গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে বলে জানিয়েছেন ষাঁড়ের মালিক শারমিন আক্তার ইতি। গৃহিণী হয়েও একটি বড় ষাঁড় লালন-পালন করে সবার মাঝে সাড়া ফেলেছেন ইতি। ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারলে সে কিছুটা লাভবান হতে পারবে, পাশাপাশি একটি খামার করার স্বপ্ন পূরণ হবে তার বলে জানিয়েছেন মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।

একইভাবে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম সাদা-কালো রঙের ৬ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট লম্বা বিশাল আকৃতির ‘কুরবান’কে বিক্রয় করতে চান ১৮-২০ লাখ টাকায়। মো. রফিকুল ইসলামের দাবি কুষ্টিয়া জেলায় এ বছর তার ষাঁড়টিই সেরা।

অপরদিকে জেলার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার চক দৌলতপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় পদ্ধতিতে পরম মমতায় লালন-পালন করেছেন সাদামানিক নামের ষাঁড়টি। ৯০০ কেজি ওজনের সাদামানিকের দাম চেয়েছেন ৭ লাখ টাকা। ষাঁড়গুলোকে দেশীয় পদ্ধতিতে ঘাস ও দানাদার খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি গোসল করানো হয় দুই বেলা। আর এসব ষাঁড়গুলো আকর্ষণীয় নাম আর আকারে বড় হওয়ায় তা দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষ বাড়িতে ভিড় করছেন। নজরকাড়া এসব পশু এবার কোরবানির বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ ও চাহিদা সৃষ্টি করছে বলে সাধারণ মানুষের অভিমত।

 

কুষ্টিয়ায় এ বছর সাড়ে ১৯ হাজার খামারে ১ লাখ ৭৮ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। লাভের আশায় প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন এবং মোটাতাজা করেছে জেলার খামারিরা। ভারতীয় গরু বাজার দখল না করলে লাভের মুখ দেখবেন বলে জানিয়েছেন জেলার ছোট বড় ও ক্ষুদ্র খামারিরা। কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, এ বছর কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়া মাঠের ঘাস ও স্বাভাবিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা বা হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। সার্বিক নজরদারির পাশাপাশি খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান।