Home কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় পদ্মা থেকে ‘রাসেল ভাইপার’ জব্দ করে গড়াইয়ে অবমুক্ত

কুষ্টিয়ায় পদ্মা থেকে ‘রাসেল ভাইপার’ জব্দ করে গড়াইয়ে অবমুক্ত

512

কুষ্টিয়ায় পদ্মা থেকে ‘রাসেল ভাইপার’ জব্দ করে গড়াইয়ে অবমুক্ত

পদ্মা নদী থেকে জেলের জালে একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ ধরা পড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে । পরবর্তীতে সাপটিকে গড়াই নদে অবমুক্তকরণ করা হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ২০২২ বেলা ১১ টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুর নীচে গড়াই নদে সাপটি অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্তকরণ করেন উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান পদ্মা নদীতে মাছ ধরা দুয়ার জালে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার আটকা পড়ে। সকালে খবর পেয়ে এই সাপটি জব্দ করা হয়। এবং গড়াই ব্রীজের (সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতু) নিচে অবমুক্তকরণ করা হয়।

এদিকে গড়াই নদে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপটি অবমুক্তকরণ করায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, নদের পাড়ে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করে। এখানকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে নদী ব্যবহার করেন। কিন্তু এখানে এত ভয়ংকর সাপটি ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের জেলে মো. শামিম হোসেন প্রতিদিনই পদ্মায় দোয়াড় জালের ফাঁদ পেতে মাছ শিকার করেন। মঙ্গলবার সকালে জাল থেকে মাছ বের করতে যান। জালে মাছের পরিবর্তে সাপ দেখতে পান। প্রথমে তিনি অজগর সাপ মনে করে এলাকাবাসীদের খবর দেন।

পরে সাপটিকে বনবিভাগের লোকজন নিয়ে যান।বন বিভাগের লোকজন এসে তাকে জানায় এটা বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ।

রাসেল ভাইপার সাপটি খুবই বিষাক্ত। সাপটি বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। দেশে সেসব সাপ দেখা যায়, তাদের মধ্যে রাসেল ভাইপার সবচেয়ে বিষাক্ত। এ সাপের কামড়ে শরীরের দংশ অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্তজমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারি হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত, কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা যেতে পারে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়।

প্রতিদিনই দোয়াড়ে জাল পেতে পদ্মায় মাছ ধরি। সকালে জাল তুলে দেখি একটি অন্যরকম সাপ। যা আগে কখনও দেখিনি। প্রথমে অজগর মনে করেছিলাম। পরে বনবিভাগের লোক এসে বললেন এটি বিষাক্ত রাসেল ভাইপার। সাপটি বনবিভাগ নিয়ে গেছেন।এ বিষয়ে জেলে মো. শামিম হোসেন বলেছেন।

পদ্মা থেকে এনে গড়াইয়ে ছেড়ে দিয়ে লাভ কি হলো। বরং গড়াই পদ্মার চেয়ে বেশি লোকালয়। সাপটি অনেক দুরে কোথাও ফাঁকা স্থানে অবমুক্তকরণের দরকার ছিল।উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. আকরাম হোসেন বলেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে সাপটি ভারত থেকে পদ্মা নদী হয়ে এসেছে। জব্দ করার পর গড়াই নদে অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। নদ বেয়ে অন্যত্র চলে যাবে।জেলা বনবিভাগের বনকর্মকর্তা জি এম মোহাম্মদ কবির বলেছেন।

এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি বনবিভাগের। তারাই ভাল বলতে পারবেন।কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেছেন।