Home কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় রেললাইনে পড়ে থাকা মরদেহটি টিকটকার তরুণীর

কুষ্টিয়ায় রেললাইনে পড়ে থাকা মরদেহটি টিকটকার তরুণীর

1598

কুষ্টিয়ায় রেললাইনে পড়ে থাকা মরদেহটি টিকটকার তরুণীর

রেললাইন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উদ্ধার অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম শাম্মী আক্তার ওরফে সামিয়া (২০)। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকান্দি এলাকার সাইদুল ইসলামের মেয়ে। টিকটক ভিডিও তৈরি করতেন তিনি।

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) তন্ময় ভট্টাচার্য রোববার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান নিহত তরুণীর নাম শাম্মী আক্তার। আজ দুপুরে তার আনোয়ার হোসেন ও ছোট বোন সাদিয়া খাতুন মরদেহটি শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

১২ নভেম্বর শনিবার রাত ৯,৩০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের দড়ি মালিয়াট এলাকার রেললাইনের ওপর থেকে শাম্মীর মরদেহ উদ্ধারের পর কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

তবে ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন না কী তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১২ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের দড়ি মালিয়াট গ্রামের ফুফু মোছা. কাঞ্চন খাতুনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু রাত ৮টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করি। এরপর সকালে একটা মরদেহ উদ্ধারের খবর শুনে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে যাই। সেখানে মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাই বলে জানান নিহত শাম্মীর মা হাসিনা খাতুন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণও নেই। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।’

১২ নভেম্বর শনিবার সামিয়া আমাদের বাড়িতে যায়নি। রাতে আমাদের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূর থেকে এক মরদেহ পাওয়ার খবর শুনেছিলাম বলে জানান শাম্মীর ফুফু মো. কাঞ্চন খাতুন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী রেললাইনের কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের দড়ি মালিয়াট গ্রামের সিএমবি রেলগেট এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসীরা। পরে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে।

মেয়েটি আমার এলাকার। সে টিকটক ভিডিও তৈরি করতো বলে জানা গেছে। তবে তার মৃত্যু রহস্যজনক। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে জানান কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম রফিক।

খবর পেয়ে রাতে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমদাদুল হক।