Home কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে রক্সি পেইন্টের এরিয়া ম্যানেজার হত্যার প্রধান আসামি সহ আটক...

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে রক্সি পেইন্টের এরিয়া ম্যানেজার হত্যার প্রধান আসামি সহ আটক ২

938

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে রক্সি পেইন্টের এরিয়া ম্যানেজার হত্যার প্রধান আসামি সহ আটক ২

কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২’র অভিযানে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় রক্সি পেইন্ট এর এরিয়া ম্যানেজার লোকমান হোসেন হত্যা মামলায় কিলিং মিশনের প্রধান আসামি সহ ০২ জন গ্রেফতার।

গত ০৩ আগষ্ট ২০২২ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ০৯:৪৫ ঘাটিকার সময় ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের গলির পাশে পলিথিন দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় একটি অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে ভেড়ামারা থানা পুলিশ। পরবর্তীতে মৃতদেহটি রক্সি পেইন্ট কোম্পানি লিমিটেড এর কুষ্টিয়া অঞ্চলের এরিয়া ম্যানেজার লোকমান হোসেন এর বলে তার স্ত্রী শনাক্ত করে। নিহত লোকমান হোসেন গত ০১ আগষ্ট ২০২২ তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকার সময় কুষ্টিয়া শহরে তার ভাড়া বাসা হতে কোম্পানির মালের অর্ডার নেওয়া ও বকেয়া বিল আদায়ের জন্য ভেড়ামারা এলাকার উদ্দেশ্যে বের হন। ঐদিন বিকেলে তার স্ত্রী লোকমান হোসেন এর মোবাইল ফোনে কল দিলে ফোন বন্ধ পান এবং এরপর থেকে লোকমান হোসেন নিখোঁজ হন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তার স্ত্রী গত ০২ আগষ্ট ২০২২ ইং তারিখে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানায় তার স্বামী নিখোঁজ বলে একটি সাধারন ডায়েরি করেন।

উক্ত হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে নিহতের স্ত্রী জিন্নাত আরা টুম্পা বাদী হয়ে ০৩ আগষ্ট ২০২২ ইং তারিখ ভেড়ামারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নাম্বার-৬, তারিখ-০৩/০৮/২০২২, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড। উক্ত হত্যাকান্ডটি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রæতিতে, আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাব উদ্যোগী হয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প, র‌্যাব-১২ এর একটি আভিযানিক দল র‌্যাব সদর দপ্তর এর গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় গত ০৭ আগষ্ট ২০২২ তারিখ বিকাল ০৬:৩০ ঘটিকায় ঢাকা জেলার সাভার এলাকা হতে উক্ত মামলার এজাহার নামীয় আসামী ১। মোঃ সোহানুর রহমান সোহান (২২), পিতা-মোঃ দর্পণ আলী এবং ২। মোঃ দর্পণ আলী (৬১), পিতা-মৃত দাউদ খন্দকার @ মতিয়ার রহমান, উভয় সাং-দক্ষিণ রেলগেইট পৌর চাঁদগ্রাম, থানা-ভেড়ামারা, জেলা- কুষ্টিয়া’কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামি সোহানুর রহমান সোহান এর দেখানো মতে হত্যাকান্ডের স্থান ‘দর্পণ হার্ডওয়্যার’ এর ভাড়াকৃত গোডাউন হতে হত্যাকারীদের রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়।

আটকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ২নং আসামি মোঃ সোহানুর রহমান সোহান লোকমান হোসেন হত্যাকান্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহনের কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। নিহত লোকমান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত দর্পণ হার্ডওয়্যার এর নিকট কোম্পানির বকেয়া বিল আদায়ের উদ্দেশ্যে গেলে উক্ত দোকানের মালিক মোঃ দর্পণ আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল আউয়াল র‌্যাভেন তার বাবা কর্তৃক তার নিকট প্রদত্ত বকেয়া টাকা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে লোকমান হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে র‌্যাভেনের ছোট ভাই সোহান ভিকটিমকে তাদের ভাড়াকৃত গোডাউনে হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা প্রান্ত ইসলাম সাব্বির (২১), পিতা- মোঃ শেরেগুল ইসলাম এবং ৪ নং আসামি মোঃ শুভ (২৩), পিতা- মোঃ তাহাজ, উভয় সাং-কাচারিপাড়া, থানা-ভেড়ামারা, জেলা-কুষ্টিয়াদের সহযোগিতায় ভিকটিমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং শ^াসরোধ করে হত্যাকান্ড সম্পন্ন করে। হত্যাকান্ডের পরের দিন সকালে সোহান তার বাবা দর্পণ আলীকে বিষয়টি জানায়। তখন দর্পণ আলী সোহানকে মৃতদেহটি গুম করে ফেলার নির্দেশ দেয়। ০২ আগষ্ট ২০২২ তারিখ নিহত লোকমানের খোঁজে তার স্ত্রী দর্পণ হার্ডওয়্যার এ আসলে দর্পণ আলী জানায় যে, লোকমান আগেরদিন তার দোকানে এসেছিল এবং বকেয়া টাকা নিয়ে চলে গেছে। একই দিন গভীর রাতে র‌্যাভেন এর বন্ধু জীবন এবং দর্পণ হার্ডওয়্যার এর কর্মচারী তুহিন এর পাহাড়ায় ভিকটিম এর মৃতদেহ ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের গলিতে ফেলে রাখে। ০৩ আগষ্ট ২০২২ তারিখ সকালে পুলিশের প্রেফতার এড়াতে দর্পণ আলী তার ছোট ছেলে সোহানকে নিয়ে বাড়ি থেকে আত্মগোপনে চলে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করতঃ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।@rab12