Home কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশাসনের প্রয়োজনে দরজা বন্ধ জনগণের!

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশাসনের প্রয়োজনে দরজা বন্ধ জনগণের!

139

 

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের তিন প্রবেশ দ্বারের বন্ধ রয়েছে প্রধানটি। এতে সৃষ্টি হয়েছে নিয়মিত জনদূর্ভোগ। এই চত্বরে অন্তত ২৫টি সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের র্কোয়ার্টারও। সরকারি নার্সারি, খাদ্য গুদামও এই ক্যাম্পাসেই। বিচার বিভাগসহ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় একই আঙ্গিনায়। এখানেই শিশুদের খেলার মাঠ, আছে পাবলিক মিলোনায়তন এবং শিল্পকলা একাডেমি। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল একই চত্বরে। এখানে প্রবেশ ও বাহিরের জন্য তিনটি পথের দুটিতে দরজার ব্যবস্থা আছে, যার একটি খোলা থাকে ভোর থেকে রাত আনুমানিক ১০টা পর্যন্ত। একটি প্রবেশ পথে কোন দরজার ব্যবস্থা নেই, পথটি ভাঙ্গাচোরা বিধায় এপথে লোক চলাচল কম। একটি দরজা বছর খানেক বন্ধ রয়েছে, যেটিকে ধরা হয় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের প্রধান প্রবেশদ্বার, চত্বরের উত্তর ও দক্ষিণে দুই প্রবেশদ্বারের মধ্যবর্তী জায়গায় এই প্রধান ফটক। এই দরজাটি ২৪ ঘণ্টা/৭দিন বন্ধ থাকায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে জনসাধারণের। উল্লেখ্য, এখানে প্রতি কার্যদিবসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা প্রয়োজনে মানুষ আসেন অন্তত হাজার তিনেক।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার এ প্রসঙ্গে বলেন, এতে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে জানি। মেইন গেইট টা পাহারা দিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। আমি আসার পরও কয়েকবার চুরি হয়েছে। শিগগিরই সবগুলো গেইটের বিষয়ে মাসিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিন গেইটের দু’টিতে সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। একটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এছাড়াও এই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তবে, মাঝ বরাবরের মূল এই গেইট কেন বন্ধ সে বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন জনমনে। আর দৈনন্দিন ভোগান্তিতে বিপাকে তারা। উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, দরজাটি ২৪ঘণ্টা বন্ধ থাকায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাািশ ব্যবসায়ীক ক্ষতিও হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন বাজার কমিটির সভাপতি কাজীম উদ্দিন ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে এই দরজাটি খোলার ব্যবস্থা করা উচিত।

দৌলতপুর উপজেলা দলীল লেখক কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, এখানে অফিস খোলা থাকা দিনে কম হলেও তিন-চারহাজার লোক আসে। অধিকাংশ লোকেরই চলাচলের রাস্তা এটি। দরজাটি অনাকাঙ্খিত ভাবে বন্ধ থাকায় সবাই ভোগান্তিতে আছে। অনেক সময় সন্ধ্যার পরেও বিভিন্ন দপ্তরে দাপ্তরিক কাজ চলে। একটি পকেট গেইট আছে যেটি না থাকা মতোই।

উপজেলা সদরে কাজ করতে আসা দূর-দূরান্তের মানুষেরা বলেন, আমরা এখানে কাজ করতে এসে দরজাটি বন্ধ থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়ি, সাইকেল-মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহন রাস্তায় রাখা যায়না। উপজেলা পরিষদ এলাকার কোন দপ্তওে কাজ করতে আসলে ভিতরেই রাখা লাগে। দরজাটি বন্ধ থাকায় দুই দরজার চাপ এক দরজায়, এতে বাড়তি ঝামেলা সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগিরা।