Home কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় ২৩ দিনে ১৩৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত 

কুষ্টিয়ায় ২৩ দিনে ১৩৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত 

156

কুষ্টিয়ায় ২৩ দিনে ১৩৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

গত ২৩ দিনে ডেঙ্গুতে কুষ্টিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৬ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আজ ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৫ জনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩ জন ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগী ঈশ্বরদী উপজেলার নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক।

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরো জেলায় মাত্র একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ছিলেন। এর মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে ১১ জন শনাক্ত হয়। রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাসিন্দা ও নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করেন। এরপর ২৩ দিনে আজ পর্যন্ত ১৩৬ জন আক্রান্ত হন। এর মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাব্বী সরদার (২০) নামের একজন মারা যান। তিনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রামের বাসিন্দা রাজা সরদারের ছেলে। রাব্বী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করতেন।সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে চলতি বছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসা উপজেলায় কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হননি।আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০৭ জন। বাকি রোগীদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৫ জন ভর্তি আছেন। এ ছাড়া অন্য রোগীরা ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে দুটি কক্ষে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের সবাই মশারির ভেতরে অবস্থান করছেন।

কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ভেড়ামারার ষোলদাগ এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক জানান, তিনি রূপপুর প্রকল্পে শ্রমিকের কাজ করেন। পাঁচ দিন আগে হঠাৎ জ্বর অনুভব করলে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানতে পারেন, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। কাজ করার সময় প্রচুর মশা কামড়াত। বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভেতরে পানি জমে থাকে। সেখানে প্রচুর মশা দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকংশ রোগী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এডিস মশার কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে এডিসের লার্ভা নিধনে ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাবনার সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন।

হঠাৎ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেড়েছেন। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় সব সেবা দেওয়া হচ্ছে। যিনি মারা গেছেন, তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় এসেছিলেন। তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরছেন।কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও মেডিসিন চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান বলেছেন।