Home বাংলাদেশ গাংনীর মাঠপাড়ায় কিশোরকে বলাৎকারের পর ভিডিও ধারণ, মাকে ধর্ষণের হুমকি

গাংনীর মাঠপাড়ায় কিশোরকে বলাৎকারের পর ভিডিও ধারণ, মাকে ধর্ষণের হুমকি

7

গাংনীর মাঠপাড়ায় কিশোরকে বলাৎকারের পর ভিডিও ধারণ, মাকে ধর্ষণের হুমকি

এক কিশোরকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনীর মাঠপাড়ায়। বলাৎকারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভিডিও এবং ছবিও ধারণ করেছেন প্রতিবেশী মুরছালিন।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস করতে চাইলেও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বাধা ও হুমকি দেওয়ায় বিচার কাজ থমকে যায়। গেল এক সপ্তাহ ধরে ওই কিশোরের পরিবারটি এক ধরনের জিম্মি হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ জুলাই সকালে মাঠপাড়ার ওই কিশোরকে পাখি শিকারের কথা বলে তারই খেলার সঙ্গী রাহুলকে দিয়ে ডেকে নেয় মুরছালিন। পরে বাড়ির পাশে মাঠে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। আর ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে রাহুল। বলাৎকার শেষে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শাসিয়ে দেয়। ঘটনাটি ফাঁস হলে হত্যার হুমকিও দেয় মুরছালিন।

মুরছালিন মাঠপাড়ার মোকাদ্দেস ওরফে মুকার ছেলে এবং একজন মুরগি ব্যবসায়ী।

এদিকে ওই কিশোর বাড়ি ফিরে অসুস্থতাবোধ করলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। এরপর স্থানীয় কয়েকজনকে জানান এবং তার মা বিচার দাবি করেন। কিন্তু প্রভাবশালী মুরসালিন ও তার লোকজনের চাপ ও হুমকির মুখে তা থমকে যায়।একই সময়ে অসহায় পরিবারটি গাংনী থানায় আসলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদেরকে নিরুৎসাহিত করেন। মেডিকেল করা হলে কোনো আলামত পাওয়া যাবে না, মামলা করলেও কিছু হবে না; উল্টো বিপদে পড়তে হবে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে এক রকম হতাশা নিয়েই ফিরে আসেন তারা।

জানা গেছে, বিচার না পেয়ে ও নিরাপত্তাহীন হয়ে এক রকম গৃহবন্দি হয়ে পড়েন ওই পরিবারটি। থানা থেকে ফেরার পর মুরছালিনের মা ও বোন ওই কিশোরের বাড়িতে যায় এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে এই পাড়া থেকে উচ্ছেদ করা হবে বলেও হুমকি দেন। এর পরদিন মুরছালিন ওই কিশোরের মাকেও ধর্ষণের হুমকি দেয়। অবশেষে গাংনী পৌর মেয়রকে জানালে তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাশিদুল ইসলাম খোকনকে দায়িত্ব দেন ঘটনাটি তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কাউন্সিলর রাশিদুল ইসলাম খোকন বিস্তারিত জানার পর সাংবাদিকদের বিষয়টি অবগত করেন এবং একই সঙ্গে থানায় মামলা করার জন্য ওই কিশোরের পরিবারের লোকজনকে পাঠিয়ে দেন।

তার ছেলের ওপর পাশবিক নির্যাতনের পর থেকেই তারা হুমকির মুখে। স্বামী বিদেশ থাকায় গোটা পরিবার নিরাপত্তাহীন। এর ওপর একের পর এক হুমকি। এর সুষ্ঠু ও সুবিচার দাবি করেন ওই কিশোরের মা।

ওই কিশোরের পরিবারটি ইতোপূর্বে থানায় এসেছিলেন। মামলার করার বিষয়ে তারা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু পরে আর তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ওই পরিবারটি থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান মেহেরপুরের গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।