Home বাংলাদেশ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বৃষ্টির কারণে ভিক্ষা পাননি বৃদ্ধা, শুনে নিজের ভিক্ষার টাকা দিয়ে...

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বৃষ্টির কারণে ভিক্ষা পাননি বৃদ্ধা, শুনে নিজের ভিক্ষার টাকা দিয়ে দিলেন আরেক ভিক্ষুক 

162

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বৃষ্টির কারণে ভিক্ষা পাননি বৃদ্ধা, শুনে নিজের ভিক্ষার টাকা দিয়ে দিলেন আরেক ভিক্ষুক

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ দৃশ্যটি দেখা যায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডের এক চায়ের দোকানে। নিজের ভিক্ষার টাকা অন্য ভিক্ষুকের হাতে তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মামুন হোসেন।

কয়েকদিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে মানুষের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এরপরও আয় রোজগার করতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন অনেকে। এদের মধ্যে দেখা যায় দুইজন ভিক্ষুককে। এদের মধ্যে একজন বৃদ্ধা রাহেলা খাতুন (৭০), আরেকজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মামুন হোসেন। মামুন বাসে ভিক্ষা করেন। রাহেলা কোটচাঁদপুর শহরের দোকান আর বাসাবাড়িতে ভিক্ষা করেন।

বুধবার সকাল ৯টায় মামুন বসে ছিলেন কোটচাঁদপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডের বাস কাউন্টারের পাশের চায়ের দোকানে। হঠাৎ ওখানে এসে পৌঁছান বৃদ্ধ রাহেলা খাতুন (৭০)। বৃষ্টিতে তার গায়ের কাপড়ের অধিকাংশ ছিল ভেজা। তিনিও বসেন ভিক্ষুক মামুনের পাশে। এর কিছুক্ষণ পর আলাপচারিতা করতে দেখা যায় ওই দুইজনকে।

একপর্যায়ে মামুন তার পকেট থেকে টাকা বের করে হাত বাড়িয়ে দেন রাহেলার দিকে। নিতে বলেন টাকাগুলো। রাহেলা টাকাটা হাতে নেন। এদিকে এ দৃশ্য দেখেন স্থানীয় অনেকে। হতবাক হন মামুনের এ আত্মত্যাগ দেখে।

৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে মামুন দ্বিতীয় ছেলে। মামুন বিয়ে করেছেন। সংসার জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।মামুন কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

জন্ম থেকে আমি প্রতিবন্ধী ছিলাম না। ছোটবেলায় পোলিও হওয়ায় আমি প্রতিবন্ধী হয়েছি। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। এ ছাড়া সরকার থেকে প্রতিবন্ধী ভাতাও পেয়ে থাকি মামুন জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আমার আয় রোজগার খারাপ হয় না প্রতিনিয়ত আমি বাসে ভিক্ষা করি। এ কারণে মায়ের বয়সের বৃদ্ধাকে ভেজা অবস্থায় দেখে আমার কষ্ট লেগেছিলো। তিনি আমাকে বলেছিলেন, বৃষ্টির কারণে আজ কোনো ভিক্ষা হয়নি। এ কারণে আমার ভিক্ষা করা কিছু টাকা তাকে দিয়েছি।

বেশ কয়েক বছর হলো তার স্বামী মারা গেছেন রাহেলা খাতুনের কোটচাঁদপুর উপজেলার মুরুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি।রেখে গেছেন দুইটি সন্তান। যার একটি মেয়ে। আরেকটি ছেলে। এদের দুইজনই প্রতিবন্ধী বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন।