Home বাংলাদেশ বাড়ির উঠানে বাবার লাশ রেখে সম্পত্তি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত সন্তানরা

বাড়ির উঠানে বাবার লাশ রেখে সম্পত্তি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত সন্তানরা

363

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বাড়ির উঠানে বাবার লাশ রেখে সম্পত্তি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত সন্তানরা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নে এক পিতার মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েরা সময় মতো দাফন করতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, বড়উঠানের ৮ নং ওয়ার্ডের কেরানীর বাড়িতে ৫০ লাখ টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বাবা মনির আহমেদের লাশ উঠানে ফেলে রেখে ২৬ ঘণ্টা ধরে বিরোধে জড়ায় তার সন্তানরা।

প্রায় ২৬ ঘণ্টা তার লাশ পড়ে ছিল একটি এম্বুলেন্সে। রোববার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার লাশ দাফন হয়নি।

জানা গেছে, ২৪ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় পরপারে পাড়ি জমান সাবেক পদ্মা অয়েল গ্রুপের কর্মকর্তা। পরে তার লাশ নিয়ে এম্বুলেন্সে রাখা হয়। তার রেখে যাওয়া ৫০ লাখ টাকা নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় ২৫ ডিসেম্বর রবিবার বিকেলেও লাশ দাফনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

বিষয়টি সমাধানে সালিশি বৈঠকও ডাকা হয়। তাতেও সমাধান না হলে ঘটনাস্থলে আসে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মনির আহম্মদ চাকরির অবসরের সময় কোম্পানি থেকে ৫০ লাখ টাকা পাই। সে টাকা ভাগাভাগি না হওয়া পর্যন্ত লাশ দাফন করতে দিচ্ছে না তাদের সন্তানরা।

বৃদ্ধের সন্তানদের এমন কীর্তিতে হতবাক হয়ে গেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মনির আহম্মদের বড় ছেলের অভিযোগ, তাদের বোন বেবি আক্তার তার বাবার একাউন্টের ৫০ লাখ টাকা বোন বেবি তুলে নিছে। ওই টাকার কোনো হিসাব পাচ্ছে না। তাই এলাকার সালিশকারদের বৈঠকে একটা সমাধান করতে চান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন বলেন, মনির আহম্মদ মারা যাওয়ার পর তাদের সন্তানদের মধ্যে টাকার বিরোধ চলছিল। সেটা এখনো সমাধান হয়নি আমি ঘটনাস্হলে আছি।

এ প্রসঙ্গে বড়উঠানের ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম দিদার বলেন, আমি এ সম্পর্কে এখনো কিছু জানি না তবে কিছুক্ষণ আগে একজন গণমাধ্যমকর্মী জানিয়েছেন একজন লোক মারা গেছে তার রেখে যাওয়া টাকার ভাগাভাগির জন্য লাশ দাফন করতে দিচ্ছে না।

সোমবার মৃতের আরেক পুত্র বিদেশ থেকে বাড়িতে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি বাড়ি ফেরার পর এবং ব্যাংক থেকে মৃতের কন্যা বাবাকে নিয়ে টাকা তুলেছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল মাহমুদ।

কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় প্রবাসে থাকা পুত্র সোমবার দেশে এলে মৃতের লাশ দাফন করা হবে।