Home বাংলাদেশ বাসা থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার,স্বামী আটক 

বাসা থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার,স্বামী আটক 

8

বাসা থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার,স্বামী আটক

বাসা থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতরা হলেন, মা বৃষ্টি আক্তার (৩৩) ও মেয়ে সানজা মারওয়া (১০)। এ ঘটনায় বৃষ্টি আক্তারের স্বামী সেলিমকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করেছে বাড্ডা থানা পুলিশ।

১৪ জুন বুধবার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে (বুধবার) ভোরে ফরাজী হাসপাতাল থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ।

রাতে খবর পেয়ে ফরাজী হাসপাতালে গিয়ে মা ও মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। বাসা থেকে তার স্বামী ও স্বজনরা তাদের ওই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। তখন সন্দেহ হলে সেখান থেকেই তার স্বামীকে আটক করা হয়

মা-মেয়েকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে মা-মেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন সেলিম। তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিষপানের কোন সিমটম (আলামত) তাদের মধ্যে ছিল না। এজন্য প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেলিম তাদের দুজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে জানান বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছাদেক মিয়া।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছাদেক মিয়া আরও বলেন, তাদের সাত-আট মাসের আরও একটি সন্তান রয়েছে। সেলিম বর্তমানে বেকার, ফ্ল্যাটের ভাড়া তুলে সংসার চালায়। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত জানা যায়নি। মরদেহ দুটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। নারী পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে, তিনি এলে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

পরিবারের অভিযোগ, সোহেলের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এবং একাধিকবার একাধিক মেয়েকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে সে। এসব বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। তার জের ধরেই সেলিম তার স্ত্রী ও মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।

তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টুঙ্গিবাড়ী উপজেলার চাষিরা গ্রামে। বর্তমানে পশ্চিম মেরুল বাড্ডা জামশেদ টাওয়ারের ৮ম তলায় থাকতেন তারা। এটি বৃষ্টির স্বামী সেলিমের নিজের বাড়ি বলে জানান বৃষ্টির মামা সোহেল সিকদার।

তিনি অভিযোগ করেন, রাত ২টার দিকে সেলিম বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে ফোন করে খবর দেয় যে বৃষ্টি ও তার মেয়ের অবস্থা ভালো না। খবর পেয়ে সোহেল ওই বাসায় গিয়ে বৃষ্টিকে এক রুমে এবং পাশের রুমে সানজাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় বাসায় ছিলেন সেলিম। ৯ মাসের ছোট ছেলে সারিনকে তখন প্রতিবেশী এক ভাড়াটিয়ার কোলে দেখতে পান। তখন সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি ও সানজাকে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।