Home কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ভাংচুর, আহত দুই শতাধিক

ভেড়ামারায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ভাংচুর, আহত দুই শতাধিক

11

ভেড়ামারায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপ সংঘর্ষ ভাংচুর, আহত দুই শতাধিক।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পুলিশের বাধায় বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভাস্থল ভাংচুরসহ সভা পন্ড হয়েছে। এছাড়াও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দক্ষিণ রেলগেটে অবস্থিত ব্যক্তিগত অফিস জাসদের কর্মীরা ভাংচুর করেছে এবং পুলিশি তান্ডবে সভা পন্ড হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

৩০ মে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় শহরের নওদাপাড়ার দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রেজানা যায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে শহরের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে। সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম এসময় বক্তব্য রাখছিলেন।

এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছুটাছুটি শুরু হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সভাস্থলের চেয়ার টেবিল ভাংচুর ও অনেক নেতাকর্মীরা আহত হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম অভিযোগ করে বলেন, সভাস্থলে পুলিশ আচমকা এসে নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ ও ভাংচুর শুরু করে। এসময় পুলিশ সভাস্থল থেকে ১০টি মোটরসাইকেল, ফ্যান জুতা-সেন্ডেল এবং দলের অনেক নেতা-কর্মীকে আটক করে নিয়ে গেছে। পুলিশের এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জের আঘাতে আমিসহ প্রায় দেড় থেকে দুইশো বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়াও পরে জাসদের সন্ত্রাসী বাহিনী দক্ষিণ রেল গেট এলাকায় পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক ডাবলুর অফিস ভাংচুর করেছে। এছাড়াও সাবেক এমপি শহিদুল ইসলামের বাড়ি ভাংচুর ও তার কেয়ারটেকারকে মারধর করা হয়েছে। বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ অপবাদের বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও তাদের সাজানো বলে তিনি জানান।

অফিস ভাংচুরের বিষয়ে উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এসএম আনসার আলী বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ মহাজোট সরকারের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে অনেক কুটুক্তি বক্তব্য দিচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করছি। তবে কারা বিএনপির অফিস ভাংচুর করেছে জানিনা। যতদুর জানতে পেরেছি অপর একটি বিএনপির গ্রুপ এ ভাংচুরের সাথে জড়িত থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অনুমতি না নিয়েই বিএনপি এ সভাটি করে। বিএনপির অপর একটি অংশের সাথে দীর্ঘদিন বিবাদে নিজেরা লিপ্ত। ঘটনার দিন নিজেরাই সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক ও ১০ টা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।