Home বাংলাদেশ মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন নাহিদ’ জীবিত অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন নাহিদ’ জীবিত অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

145

মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন নাহিদ’ জীবিত অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন নাহিদ ইসলাম ওরফে তাজুল ইসলাম (২৮) নামে এক কেয়ারটেকার। তবে ৪০ ঘণ্টার মাথায় তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন রোববার (২ এপ্রিল) দুপুরে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ধারদেনা থেকে বাঁচতে নিজের বিছানা ও থাকার কক্ষে রক্তসদৃশ তরল পদার্থ ছিটিয়ে হঠাৎ উধাও হয়েছিলেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের মাথিরাউরা ইউনিয়নের একটি বাড়ির কেয়ারটেকার নাহিদ ইসলাম। তাকে আটকের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার বড়ভিটা পূর্বপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।

গত শুক্রবার (৩১ মার্চ) ভোরের দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, মাথিউরা ইউনিয়নের মাথিউরা পূর্বপার গ্রামের আব্দুল হেকিমের (৬৮) বাড়ির কেয়ারটেকার নাহিদ ইসলাম খুন হয়েছেন। তার শোয়ার ঘরভর্তি রক্ত। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিছানা, ঘরের মেঝে এবং বারান্দা রক্তে সয়লাব থাকলেও মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড মনে হওয়ায় রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। শনিবার খুন হওয়ার নাটক সাজানো নাহিদকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তার নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে বিয়ানীবাজারের ওই এলাকায় আছেন। কিন্তু তার প্রকৃত পরিচয় কেউ জানতেন না। নাহিদের বাড়ি নীলফামারী।প্রকৃতপক্ষে তার নাম তাজুল ইসলাম। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার বড়ভিটা পূর্বপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। সেখানে অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় বিয়ানীবাজারে আত্মগোপনে আছেন। নাহিদ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে বড় অঙ্কের টাকা ঋণ হয়ে যায়। এরপর তিনি কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম পরিবর্তন করে স্থায়ী ঠিকানা গোপন রেখে বিয়ানীবাজারের ওই বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতে শুরু করেন। ওই ঠিকানা স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর নাহিদের ঘর তল্লাশি করে একটি ডায়রি পেয়েছে পুলিশ। এতে দেনা-পাওনার হিসাব লেখা ছিল। তার ঘরে একটি বালতি ও মগে রং গুলিয়ে রাখার আলামত পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার নাহিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।