Home বাংলাদেশ হাসপাতাল থেকে প্রসবের পর বাচ্চা গায়েব, চিকিৎসকের দাবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না সেই...

হাসপাতাল থেকে প্রসবের পর বাচ্চা গায়েব, চিকিৎসকের দাবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না সেই নারী

8

হাসপাতাল থেকে প্রসবের পর বাচ্চা গায়েব, চিকিৎসকের দাবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না সেই নারী

রাজশাহী নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রসবের পর বাচ্চা গায়েব করে দেবার অভিযোগ তুলেছেন একটি পরিবার। তবে বাস্তবে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকরা। তাহলে কোন উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ আনলো সেই পরিবার তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাজশাহী নগরীর তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা তামান্না আখতার। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) প্রসব বেদনা উঠলে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার রয়েল হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন।

বিকেল ৩ টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ওটিতে এক ঘণ্টা পার না হতেই রোগীকে বের করা হয়। কাটা হয়নি পেটও, হয়নি প্রসবও। তবে এসময় ওই নারীর সঙ্গে কোনো বাচ্চা ছিল না। রোগীর স্বজনরা জানতে চাইলে চিকিৎসকরা জানান, তার পেটে কোনো বাচ্চা নেই।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, তামান্না আখতারের গর্ভে দুটি সন্তান ছিল। ওটিতে নেওয়ার পর রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়ার (অজ্ঞান করার) ইনজেকশনও দেওয়া হয়। এরপর তিনি বাচ্চা প্রসব করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সেই বাচ্চা চুরি করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা করেনি রোগীর পরিবার।

তামান্না আখতার বলেন, আমি ৯ মাস ১২ দিনের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। এর আগেও আমি ডাক্তার দেখিয়েছি। আমার দুইটা বাচ্চা ছিল। আলট্রাসনোগ্রামে দেখা গেছে, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তির পর আমাকে ওটিতে নেওয়া হয়। এর আগে আমার সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। এরপর আমাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়।

ওটিতে নেওয়ার পর তারা আমার সঙ্গে বাজে আচরণ করতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরে চিকিৎসক ডাক্তার নিশাত আনাম বর্ণা বলেন, এদিকে দেখেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম আমার পুরো শরীর ঝাঁকি দিচ্ছে। মনে হলো বাচ্চা টেনে বের করে নেওয়া হচ্ছে। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন আমি জানতে পারলাম আমার পেটে নাকি কোনো বাচ্চা ছিল না।

রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। তার ভাইয়ের কাছ থেকে জানা তার পেটে দুইটা বাচ্চা ছিল। তবে বাস্তবে তার প্রমাণ মেলেনি বলে জানান রয়েল হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়ার চিকিৎসক আলী চৌধুরী রিমন।

বউমাকে ওটিতে নিয়ে যাওয়ার পর তারা বাচ্চার জন্য নতুন কাপড়ও নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই তারা সেটি ফিরিয়ে দিয়ে যায়। আমাদের বলে রোগীর প্রেশার উঠেছে, ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এখন ঘুমাচ্ছে। প্রেশার কমলে অপারেশন করা হবে। তার কিছুক্ষণ পরই আমার মেয়ে ওটিতে গিয়ে দেখে বউমার পেট নেমে গেছে। আগের মতো উঁচু নেই বলে জানান তামান্নার শাশুড়ি তাহেরা বিশ্বাস।

একজন নারী প্রেগন্যান্সির সব সিম্পটম নিয়ে এখানে এসেছিলেন। তাকে পরীক্ষা করার আগেই তার প্রসব বেদনা ওঠে। তিনি দাবি করেন, তারা (রোগীর স্বজনরা) কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। তার কাছে কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি। এটি রোগীর একটি মানসিক সমস্যা, যার নাম ফ্যানটম প্রেগনেন্সি। এর ফলে মানসিক ধারণা থেকেই রোগীর পেট ফুলে যেতে পারে বলে জানান গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশাত আনাম বর্ণা।

এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে, সাধারণ ডায়েরি নয়। আমরা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছি। এখন তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজল নন্দী।