বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁর ইউপি সদস্য স্ত্রীকে জিম্মি করে চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তিনটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ভয়ে ওই দম্পতি স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পারেননি।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাল মিয়া কবিরাজ ও তাঁর স্ত্রী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য জেসমিন আরা বেগম গত বুধবার (১৩ মে) দুপুরে অটোগাড়িযোগে উপজেলা সদরে আসার পথে কাজীরহাট নামের স্থানে তাঁদের ভ্যানের গতি রোধ করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আলী হোসেন স্বপন ভূঁইয়া। এ সময় ওই বিএনপি নেতার নিজস্ব কার্যালয়ে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাঁদের কাছে টাকা না থাকায় স্বামী লাল মিয়া কবিরাজকে আটক রেখে স্ত্রী জেসমিন আরা বেগমকে টাকার জন্য বাড়িতে পাঠান।
জেসমিন বাড়ি গিয়ে কৌশলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামচুল হক খোকনকে ঘটনা জানান। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ঘটনা জানালেও আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে দাবি করা টাকা না দেওয়ায় সংরক্ষিত ইউপি সদস্য জেসমিন আরা বেগমের কাছ থেকে আলী হোসেন স্বপন ভূঁইয়ার অনুসারী হাউল নামের এক ব্যক্তি ৫০০ টাকা নিয়ে ছয়গ্রাম বাজার থেকে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্প কিনে আনেন। এরপর ওই সাদা স্ট্যাম্পে লাল মিয়া কবিরাজ ও জেসমিন আরা বেগমের স্বাক্ষর রেখে তাঁদের ছেড়ে দেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা লাল মিয়া কবিরাজ বলেন, ‘আমরা দুজনে আগৈলঝাড়া যাওয়ার পথে আমাদের আটক করে টাকা দাবি করেন বিএনপি নেতা স্বপন ভূঁইয়াসহ তাঁর লোকজন। তাঁদের চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তাঁরা সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে আমাদের দুজনের কাছ থেকে স্বাক্ষর রাখেন।’
এ ব্যাপারে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আলী হোসেন স্বপন ভূঁইয়া বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমার বিরুদ্ধে মামলা করে আমাকে হেনস্তাসহ অনেক টাকা খরচ করিয়েছিল। সে বিষয়ে জানতে তাদের দুজনকে ভ্যানগাড়ি থেকে নামানো হয়েছিল। কে বা কারা তাদের কাছে টাকা চেয়েছে বা সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখেছে, আমার জানা নেই।’
জেসমিন আরা বেগম ফোনের মাধ্যমে আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা আমার কাছে না আসায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) সিকদার হাফিজুল ইসলাম।
৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে এসআই সমীর বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর আগেই তাঁদের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।বলে জানান আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক।