ইবি'র ঝাউদিয়া এলাকায় অস্ত্র কিনতে এসে আটক ২
তিতাস আহম্মেদ
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাঝপাড়া এলাকায় অস্ত্র কিনতে এসে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন দুই ব্যক্তি। পরে তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকার মৃত তালেব আলীর ছেলে মো. শাজাহান (৪৪) এবং লাহিনী বটতলা এলাকার আকুলের ছেলে মো. সবুজ (৪০)।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে মাঝপাড়া এলাকায় অস্ত্র কেনাবেচা হচ্ছে—এমন সন্দেহে স্থানীয় জনতা ওই দুই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে আটক করে। এ সময় তাদের গণধোলাই দেওয়া হয়।
এ বিষয় ঝাউদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি আরব আলী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অস্ত্র সহ দুই জন কে আটক করে ক্যাম্পে আনি।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ইবি থানায় হস্তান্তর করি।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আটক ব্যক্তিদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ সময় তারা দাবি করেন, মাঝপাড়া এলাকার মজিদ মেম্বার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে এসে তারা ধরা পড়েছেন। পরে একটি ব্যাগ তল্লাশি করে একটি ভাঙা বন্দুক বের করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার নান্দিয়ার বিলকে কেন্দ্র করে অস্ত্র ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের তৎপরতা চলে আসছে। এই বিলকে কেন্দ্র করে অতীতে সংঘাতের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় আবারও অস্ত্রের আনাগোনা শুরু হওয়ায় নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মজিদ মেম্বারের ছেলে সাগর ইসলাম জানান,এটা সাজানো নাটক, গতরাতের অস্ত্রে ঘটনার সাথে আমার ও আমার পরিবারের কোন সম্পর্ক নি। আমাদের যদি বন্দুক থাকত, তাহলে আমরা তো বিল বেহাত হতে দিতাম না। আমার বাবা বাসায় থাকে না পাটের কাটার জন্য বাসায় আসছে।তাকে এলাকায় থাকতে দেবে না, এজন্য এই অস্ত্রের চক্রান্ত করেছে। এই ঘটনার সুস্থ তদন্ত চাই।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা মাঝপাড়া এলাকার মজিদ মেম্বার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বন্দুকটি কেনার কথা স্বীকার করেছেন। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।