২০২৩ সাল থেকে বার্সেলোনায় খেলছেন লামিনে ইয়ামাল। গোলও যেমন করছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছেনও। জাদুকরী ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন তিনি। তবে ইতালিতে খেললে এমন সুযোগ পেতেন না বলে দাবি জার্মান কিংবদন্তি ইউর্গেন ক্লিনসমানের।
বসনিয়ার কাছে ৩১ মার্চ রাতে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হেরে যাওয়ায় ইতালির আর ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ খেলতে না পারা ইতালির করুণ অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে ইয়ামাল-জামাল মুসিয়ালার মতো তরুণ ফুটবলারদের নাম উল্লেখ করেছেন ক্লিনসমান। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জার্মান কিংবদন্তি বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল ও জামাল মুসিয়ালা ইতালিতে খেললে অভিজ্ঞতা অর্জনের অজুহাতে হয়তো তাদের দ্বিতীয় বিভাগে পাঠানো হতো। বেশির ভাগ কোচ যেকোনো মূল্যে জিততে চাওয়ার বদলে না হারার লক্ষ্যেই কাজ করেন। বিশ্বকাপে খেলতে না পারা এরই ফল।’
ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের মধ্যে একটি হলো ইতালিয়ান ‘সিরি-আ’। একটা সময় নিয়ম ছিল ক্লাবগুলোতে তিন জনের বেশি নন-ইউরোপিয়ান খেলোয়াড় রাখা যাবে না। তাতে করে ইতালির খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা আরও বেড়ে যায়। তবে ১৯৯৫ সালে বসমান রায়ের পর সবকিছু বদলে যায়। ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের অধিকার বাড়াতে একটা মামলা করা হয়েছিল। তাতে করে শতাব্দীর শেষের দিকে সিরি-আতে বিদেশি খেলোয়াড়দের সংখ্যা বেড়ে যায়।
বিদেশিদের আধিক্যের কারণে ইতালির খেলোয়াড়দের জন্য ঘরোয়া শীর্ষ ক্লাবগুলোতে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়। গত কয়েক বছরে ‘সিরি-আ’য় রাজত্ব করে চলেছেন লাওতারো মার্তিনেজ, ভিক্টর ওসিমেন, রোমেলু লুকাকু, অলিভিয়ার জিরুর মতো অ-ইতালীয়রা। যেখানে ২০২৩-২৪ মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৪ গোল করেছিলেন মার্তিনেজ।
খেলোয়াড়ি জীবনে ইন্টার মিলান ও সাম্পদোরিয়ার হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্লিনসমানের। টানা তিনবার কেন বিশ্বকাপে খেলতে পারল না ইতালি, সেটা ধরতে পেরেছেন তিনি। জার্মানির ১৯৯০ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার বলেন, ‘নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে ইতালি। মুখোমুখি অবস্থায় প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে, এমন ফুটবলারদের ঘাটতি রয়েছে। তরুণদের ওপরও ম্যানেজমেন্ট আস্থা রাখতে পারছে না।’
ইতালি টানা তিনবার বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। ২ মার্চ রাতে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনার পাশাপাশি সরে দাঁড়ালেন জিয়ানলুইজি বুফন। বুফন ছিলেন ইতালির জাতীয় দল ডেলিগেশনের প্রধান। ঠিক তার পরের দিন পদত্যাগ করেছেন প্রধান কোচ জেনারো গাত্তুসো।
২০১৭ সালে সুইডেনের কাছে প্লে–অফে হেরে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ইতালির। উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারে কাতার বিশ্বকাপেও (২০২২ সাল) খেলা হয়নি আজ্জুরিদের। এবার ইতালি হেরে বসল বসনিয়ার কাছে। যেখানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইতালি অবস্থান করছে ১২ নম্বরে। আর বসনিয়া র্যাঙ্কিংয়ে ৬৫তম দল। মূল ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে হেরে যায় ইতালি। আজ্জুরিদের তাই অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।