একজন সাংবাদিক কতটুকু নিরাপদ?
পাভেল আজিম:
প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় একজন সাংবাদিক জানেন না দিনের শেষে তিনি কী নিয়ে ফিরবেন—একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, নাকি কোনো হুমকি, অপমান কিংবা হামলার অভিজ্ঞতা। তবুও তিনি থেমে থাকেন না। কারণ তার দায়িত্ব শুধু সংবাদ সংগ্রহ করা নয়, সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরা।
সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায় এবং মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের অনেক সময় নানা বাধা, চাপ ও ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়। সত্য প্রকাশ অনেকের কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে, কিন্তু সেই সত্যই একটি সমাজকে সচেতন করে, একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। অথচ সেই সত্য তুলে ধরার মানুষগুলোই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়েন।
একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি জনগণের জানার অধিকারের ওপর আঘাত। একটি স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া কোনো সমাজই সুস্থভাবে বিকশিত হতে পারে না। আর স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজন সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত মর্যাদা।
আজ যখন আমরা প্রতিনিয়ত তথ্য ও সংবাদ পাচ্ছি, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত—এই তথ্যের পেছনে রয়েছে অনেক মানুষের পরিশ্রম, ত্যাগ এবং ঝুঁকি। একজন সাংবাদিক কখনো রোদে, কখনো বৃষ্টিতে, কখনো সংঘর্ষের মাঝখানে, কখনো আবার প্রভাবশালীদের চাপ উপেক্ষা করে কাজ করেন শুধুমাত্র সত্যকে সামনে আনার জন্য।
তাই প্রশ্ন রয়ে যায়—যারা মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করেন, তারা নিজেরা কতটুকু নিরাপদ?
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ সাংবাদিক নিরাপদ থাকলে সত্য নিরাপদ থাকবে, সত্য নিরাপদ থাকলে জনগণের অধিকার নিরাপদ থাকবে, আর জনগণের অধিকার নিরাপদ থাকলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে গণমাধ্যম আরও স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রও আরও সুদৃঢ় হবে।
সত্যের পথ কখনো সহজ নয়। তবুও যারা সাহস নিয়ে সেই পথে হাঁটেন, তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের সবার কর্তব্য।