এক কুকুরের কামড়ে আহত ৪৫, ৪০ মিনিটে হাসপাতালে ২৫
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি পাগলা কুকুরের বেপরোয়া আক্রমণে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৪৫ জন পথচারী আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে রক্তাক্ত অবস্থায় ২৫ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পৌঁছান। আকস্মিক এ ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমারখালী শহরের হলবাজার, আমতলা ও ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ শেষে ঘরে ফেরা কিংবা রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালায় একটি পাগলা কুকুর। সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়ে বা আঁচড়ে দিয়ে দ্রুত অন্য এলাকায় চলে যায় কুকুরটি।
ভুক্তভোগী রোকন মিয়া বলেন, 'হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকা পেছন থেকে কুকুরটি এসে হাঁটুতে কামড় বসিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।'
হাসপাতালে নিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ জানান, সন্ধ্যার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক আহত মানুষ হাসপাতালে আসতে শুরু করেন।
সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ের ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ৪০ মিনিটেই ২৫ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (র্যাবিস ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।
এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুবর্ণা লতিফা আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে কামড়ের খবর পেয়েছি এর মধ্যে ২৫ জন হাসপাতালে এসেছেন তাদোর মধ্যে ২০ জনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (র্যাবিস ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়েছে। আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে দারনা করা হচ্ছে৷
কুমারখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারওয়ার জানান, খবর পেয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও প্রতিষেধক নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তায় কুকুরটিকে দ্রুত শনাক্ত ও আটক করতে প্রশাসন তৎপরতা চালাচ্ছে।
তবে আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।