কুমারখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের প্রত্যয়
সুমন শেখ, জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া।
আসন্ন কুমারখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজ, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, কুমারখালী উপজেলা এবং সফল চেয়ারম্যান, পান্টি ইউনিয়ন পরিষদ, কুমারখালী উপজেলা, কুষ্টিয়া। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কুমারখালী উপজেলাকে আরও উন্নত, আধুনিক, জনবান্ধব ও পরিকল্পিত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা পর্যায়ে বৃহত্তর পরিসরে জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজ। তার মতে, একটি উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও জনসেবার মানোন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিকল্পিত উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থায় অগ্রাধিকার
কুমারখালী উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে সড়ক উন্নয়ন, সংস্কার, কালভার্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নত হলে কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা, শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ আরও সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ও গুণগত মান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্প যেন দীর্ঘদিন মানুষের উপকারে আসে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে গুরুত্ব
কুমারখালীর অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাতকরণ, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজ।
তার মতে, কৃষকের উন্নয়ন হলে গ্রামের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। তাই কৃষকদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় জনবান্ধব উদ্যোগ
উপজেলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় রয়েছে তার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
তরুণ সমাজকে উন্নয়নের অংশীদার করার প্রত্যয়
কুমারখালীর তরুণ সমাজকে উপজেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজ। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তার মতে, তরুণদের সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন, জনগণের মতামত গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, “জনগণের সেবা করাই জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব। পান্টি ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। উপজেলা পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেলে কুমারখালীর প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, কুমারখালী উপজেলার উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ উপজেলা গড়ে তোলা সম্ভব।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসেবার অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা আরও জোরালো হবে। ভোটাররা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন, যারা জনগণের সমস্যা বুঝবেন, প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং নির্বাচিত হলে তা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
সব মিলিয়ে, আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজ, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, কুমারখালী উপজেলা এবং সফল চেয়ারম্যান, পান্টি ইউনিয়ন পরিষদ, কুমারখালী উপজেলা, কুষ্টিয়া—উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে কুমারখালী উপজেলাকে আরও জনবান্ধব ও উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।