কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া গ্রামে পদ্মা নদীর পাড় ধসে দুই শিশুকন্যা নদীতে পড়ে গেছে। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর শিশু নিখোঁজ রয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ভুরকাপাড়া গ্রামের ইজাজুল মণ্ডলের সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে জামিলা খাতুন এবং প্রতিবেশী আশিক শেখের ছয় বছরের মেয়ে নূরিয়া খাতুন পদ্মা নদীর পাড়ে খেলছিল। এ সময় হঠাৎ নদীর পাড়ের একটি অংশ ভেঙে পড়লে দুই শিশুই নদীতে তলিয়ে যায়।
শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকজন নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে জামিলা খাতুনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রবল স্রোতে ভেসে যায় নূরিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও মাঝিরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,তিনি পাশের জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ নদীর পাড় ভেঙে পড়তে দেখেন এবং শিশুদের চিৎকার শুনে ছুটে যান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পানির স্রোত দুই শিশুকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
উদ্ধারকারী লালন শেখ বলেন, নদীতে নেমেই জামিলাকে পানির ওপর ভাসতে দেখে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে নূরিয়া দ্রুত স্রোতের টানে তলিয়ে যাওয়ায় তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।কান্না জাড়িত কণ্ঠে নূরিয়ার মা বলেন, আমার নূরিয়া সাঁতার জানে না। সকালে ভাত খাইয়ে পাঠালাম, এখন নদী আমার বুক খালি করে দিল। আমার নূরিয়াকে আইনা দাও তোমরা।
খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, নদীর গভীরতা ও প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে। খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।