কুষ্টিয়ায় শ'তাধিক পরিবারকে চড়া সু'দে সর্ব'শা'ন্ত'কা'রী পোড়াদহের ইকবাল শেঠ গ্রে'প্তা'র
মোঃ রবিউল ইসলাম হৃদয়, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ায় শতাধিক পরিবারকে চড়া সুদের ফাঁদে ফেলে সর্বশান্তকারী পোড়াদহের আলোচিত সুদ ব্যবসায়ী মো. নুর আলম ওরফে ইকবাল শেঠ (৪৫) নামের এক ব্যাক্তি ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩ টার সময় কুষ্টিয়া পোড়াদহ ইউনিয়নের চিথলিয়া ময়নাগাড়ি এলাকায় আসামীর নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ইকবাল শেঠ
পোড়াদহ ইউনিয়নের চিথলিয়া ময়নাগাড়ি এলাকার বাসিন্দা মৃত কাইয়ুম শেঠের ছেলে।
কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)'র এসআই রকিব উদ্দিন জনির নেতৃত্বে এসআই আলহাজ আলী, কন্সট্রেবল ইমরান ও কন্সট্রেবল সোহেল সহ সংগীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে আসামীকে গ্রেপ্তার করেন। আসামী ইকবাল শেঠের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি)পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, গ্রেফতারি ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ইকবাল শেঠকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা মিরপুর থানা পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করেছি। আসামীর কাছ থেকে সর্বশান্ত হয়ে যাওয়া ভুক্তভোগীরা মিরপুর থানার সাথে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আমার তরফ থেকে অনুরোধ করা হলো।
উল্লেখ্য : নুর আলম ওরফে ইকবাল শেঠ একসময় রড সিমেন্টের দোকান করে ব্যবসা করলেও এখন দোকান আছে তবে মালামাল নেই। গত তিনবছরের অধিক সময় ধরে তিনি সুদে টাকা দেওয়ায় ব্যবসা করে চলেছেন। তার দোকানটি এখন সুদ ব্যবসার অফিস হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে। এই ইকবাল শেঠের মরণ ফাঁদে পা দিয়ে শতাধিক ব্যক্তি এখন হয়রানি মুলক মামলার আসামি। ইকবাল শেঠের থেকে টাকা নিতে হলে আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, পরিচিত জনদের মধ্যে ২ জন জামিনদার রাখতে হয়। সেই সাথে যে টাকা নিবেন। তার বাবা/মা/স্ত্রী কেও জামিনদার হিসেবে রাখতে হয়। জামিনদারদের থেকে স্বাক্ষর করা ১টি করে ফাঁকা চেক সহ গ্রহীতার ও তার বাবা/মা/স্ত্রীর স্বাক্ষর করা ১টি করে মোট তিনটি চেক দিতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একাধিক চেকও যেমন দিতে হয় তেমনি জামিনদারের সংখ্যাও কম বেশি হয়। এরপর বহুল কাঙ্খিত সুদের টাকা পাওয়া যায়। ইকবাল শেঠের থেকে টাকা নিলে সাপ্তাহিক হারে সুদ দিতে হয়। গ্রাহক ভেদে প্রতি লাখে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন তিনি। সুদের কোন কিস্তি বাদ গেলেই নেমে আসে অমাবস্যার অন্ধকার। প্রথমে টাকা আদায়ের জন্য নানা রকম হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। তাতে
কাজ না হলে ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় টর্চার সেলে। সেখানে বিভি- ন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয় ভুক্তভোগীকে। এরপরও কাজ না হলে দেওয়া হয় হয়রানি মুলক মামলা।