সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষার ফি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কুষ্টিয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে নগদ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পৌর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মিলপাড়ায় অবস্থিত ৭নং পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া পারভীনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ৩০ টাকা করে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, তিনি ২০১৯ সালে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার ফি আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিভাবকরা জানান, তারা স্বল্প আয়ের মানুষ। বিনামূল্যে সন্তানদের পড়াশোনা করানোর উদ্দেশ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। কিন্তু পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়া তাদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে বিদ্যালয়টিতে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এ সময় পরীক্ষার ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া পারভীন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এই সাংবাদিকের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও দুর্ব্যবহার করেন।
তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ফি নিয়েছি তাতে হয়েছে কি? আপনার সমস্যা কোথায়? পরীক্ষা কিভাবে চলবে সেটা আপনি বলেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, আপনার বারোটা আমি বাজাচ্ছি, এত বড় সাহস আমার কাছে পরীক্ষার ফি নিয়ে প্রশ্ন করেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিককে বিদ্যালয় থেকে বের হতে না দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরিচয় ও ফোন নম্বর দিতে চাপ দেন এবং বলেন, আপনি এখান থেকে উঠবেন না, ব্যবস্থা নিচ্ছি।
হুমকি দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি নিজ পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার তার চাচাতো ভাই। তবে এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারকে ফোন দিলে তিনি বলেন, এই নামে আমি কাউকে চিনি না। আমার নাম ব্যবহার করে অনেকেই হয়তো স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়। কেউ অন্যায় করলে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
অনেক স্কুল পরীক্ষার ফি আদায় করছে জানিয়ে কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে সে ধরনের বরাদ্দ না থাকায় পরীক্ষা পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। তবে পরে ভিডিও ধারণের বিষয়টি জানার পর তিনি তার বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, পরীক্ষার জন্য তিনি কোনো টাকা নেননি। যদিও প্রথমে তিনি ভিডিও ধারণের বিষয়টি বুঝতে না পেরে বলেন পরীক্ষার ফি নিয়েছি তাতে হয়েছে কি।
এদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকার দুর্ব্যবহারের কারণে তারা বিদ্যালয়ের কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কমিটির সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ না নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা নুর ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এরপরও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।