কুষ্টিয়ায় সামাজিক বিরোধের জেরে দিনদুপুরে নৃশংস হামলা
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানাধীন ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও সামাজিক বিরোধের জেরে তোমসের মন্ডলের ছেলে মোক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯:৩০ ঘটিকায় লিটন আলীর চায়ের দোকানের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় মোক্তার হোসেন কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মোক্তার হোসেন বাজার থেকে পাখিভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মাঝপাড়া গ্রামের লিটন আলীর চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ভ্যানের গতিরোধ করে এবং চাবি কেড়ে নেয়।হামলাকারীরা লোহার রড, হাতুড়ি, ফাঁলা, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে মোক্তার হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি আঘাত শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ১ নং আসামি রিপন হোসেন ও ৪ নং আসামি আসাদুল ইসলাম হাতুড়ি ও রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে মোক্তার হোসেন হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার দুই হাতের কব্জি ও কনুইয়ের ওপর গুরুতর হাড়ভাঙ্গা জখম হয়।পরবর্তীতে মোক্তার হোসেন ভ্যান থেকে পড়ে গেলে ৩ নং আসামি জারিফুল ইসলাম, ৫ নং আসামি মিজানুর রহমান মেজর, ৬ নং আসামি সামিদুল ইসলাম, ৭ নং আসামি চয়েন আলী এবং ৯ নং আসামি সাহাবুদ্দিনসহ অন্যান্যরা তার দুই পা লক্ষ্য করে রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তার দুই পায়ের হাঁটুর উপরে ও নিচে একাধিক স্থানে হাড় ফেটে যায় এবং গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়। এছাড়া ৮ নং আসামি ছের আলী ও ১০ নং আসামি ইলিয়াস হোসেন হাতুড়ি দিয়ে পিঠ ও ঘাড়ে আঘাত করে জখম করেন। ১৯ নং আসামি ঠান্টু ফাঁলা দিয়ে এবং ১১ থেকে ২৯ নং আসামিরা লাঠিসোটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।

আহত মোক্তার হোসেনের পরিবারের দাবি, হামলার এক পর্যায়ে ২৩ নং আসামি আরশাদ হোসেন ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ১০,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। মোক্তার হোসেনের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে ইবি থানাধীন ঝাউদিয়া ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এএসআই আরব আলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকাটি কিছুটা দুর্গম হওয়ায় বাকি আসামিদের ধরতে সময় লাগছে, তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অতি দ্রুতই সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।