কুষ্টিয়া শহর সিসিটিভি বিহীন ‘অন্ধ’: দেড় বছর ধরে নজরদারি ব'ন্ধ, আ"ত"ঙ্কে শহরবাসী
কুষ্টিয়া শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। ২০২৫ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভাঙচুর ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় এই নজরদারি ব্যবস্থা আর সচল করা সম্ভব হয়নি। কোথাও কোথাও ক্যামেরা খুলে নেওয়া হয়েছে, আবার কিছু ক্যামেরা সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেছে।
কুষ্টিয়া শহরে চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়ছে। অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীদের শনাক্ত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে জেলা পুলিশের উদ্যোগে শহরের থানার মোড়, মজমপুর গেট, বড়বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে প্রথম পর্যায়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার ফলে একসময় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক ভাঙচুরের পর পুরো ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে যায়।
তুমিও বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় অপরাধীরা অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ছিনতাই, চুরি, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সরকারিভাবে এখনো প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধ তদন্তে আমরা ব্যক্তিগত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে কাজ করছি। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রীয় সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।