কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে গুলিতে নিহত সুলতান মিয়া হত্যা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শাকিব হোসেনকে (রাব্বি) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে রাজারহাট থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে তারা সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুলতান মিয়া তিতাস উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গৌরীপুর বাজারে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তার স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় শাকিব হোসেন এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। পুলিশ জানায়, তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডে শাকিব হোসেন জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শাকিব হোসেনের ((২৪) সঙ্গে তার ভাই নবীর হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের জহির হোসেনের ছেলে। শাকিব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাউদকান্দি উপজেলা কমিটির মুখপাত্র। গত বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে নিজ বাসা থেকে শাকিব ও তার ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।শাকিবের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শাকিব জীবন বাজি রেখে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আমার ছোট ভাইকে বিনা দোষে ফাঁসানো হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কে বা কারা পুলিশকে দিয়ে আমার দুই ভাইকে মামলার মিথ্যা আসামি করেছে। সুলতান মিয়া হত্যা মামলায় এফআইআরএ তাদের নাম ছিল না। এখন পুলিশ বলছে তারা তদন্তপ্রাপ্ত আসামি। এটাই কি দেশের গণতন্ত্র?’
এ সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরীপুর পুলিশ তদন্তের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলার তদন্ত করতে গিয়ে জুলাই যোদ্ধা শাকিব হোসেন ও তার বড় ভাই নবীর হোসেনের নাম পেয়েছি। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও লোক আছেন। দুই ভাইয়ের সঙ্গে এ মামলার আরও একজন তদন্তকারী আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দাউদকান্দি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম (শান্ত) বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা শাকিবকে কেন মধ্যরাতে বিনা নোটিশে, বিনা ওয়ারেন্টে, ফিল্মি স্টাইলে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হলো, আমরা তার ব্যাখ্যা জানতে চাই। কার ইশারায় এই কাজ হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা পরিষ্কার বক্তব্য শুনতে চাই। নয়ছয় করে এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার যদি কোনও অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারণ করবে, ইনশাআল্লাহ।’