না'রী'র চু'ল কে'টে খুঁ'টি'তে বেঁ'ধে নি'র্যা'ত'নের অ'ভি'যো'গ
শরীয়তপুরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগ এনে এক নারীর (৩৫) চুল কেটে, মুখে কালি মেখে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং শাবনুর মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা ও প্রবাসী টুটুল সরদারের স্ত্রী মলি বেগম (৩৭) সন্তানদের নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও একটি পরিবারের কাছে তার কিছু টাকা পাওনা ছিল। ওই পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সকালে দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়েসহ কয়েকজন নারী মলি বেগমকে আটক করেন। পরে তারা তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মুখে কালি মাখানো হয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে পালং-প্রেমতলা সড়কের পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
ঘটনাটি দেখে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় মলি বেগমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, দেলোয়ার কোটারির সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন রয়েছে। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে তিনি টাকা নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছিল। সম্প্রতি পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়ায় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন ।
মলি বেগম বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমি টাকার জন্য চাপ দেই। এরপর সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই। শনিবার বাড়িতে ফেরার পর দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়েসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করে। তারা আমার চুল কেটে দেয়, মুখে কালি মাখায় এবং খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। আমি এ ঘটনায় মামলা করব।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার কোটারির মেয়ে মৌসুমি আক্তার। তিনি বলেন, মলি বেগম আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। তিনি এলাকায় মাদক বিক্রি করেন। শনিবার মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় কয়েকজন নারী তাকে আটক করেন। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি আমাদের কাছে কোনো টাকা পান না।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, মলি বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা-পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। এর জেরে তাকে মারধর করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্যে একজন নারীকে এভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।