চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আলমকে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে মারধরও করেছেন। এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়ভাবে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ মাস আগে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে যোগদানের পর থেকেই ডিজিএম সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে নারী গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী এক নারী জানান, বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা এলাকার বাসা থেকে অফিসে গেলে ডিজিএম তাকে কৌশলে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। প্রথমে রাজি না হলেও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার আশায় পরে তিনি বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন।
ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওঅ্যান্ডএম) মোহাম্মদ নাজির উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জনতার হাতে আটক হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে মুচলেকা নিয়ে ডিজিএমকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিএম মো. সাইফুল আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ৪ নম্বর এলাকার সাবেক সভাপতি আলীম আজম রেজা জানান, ডিজিএমের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও নানা অনিয়মের বিষয়ে এর আগেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। সবশেষ নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাও জিএমকে জানানো হয়েছে।
ডিজিএমের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে
বলে জানান ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া।