দেশজুড়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী বুধবাড় (১৫ এপ্রিল) থেকে। পরীক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতির ব্যস্ততম সময় পার করছে। শেষ মুহূর্তের উদ্বেগ দূর করে পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে লেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
তাড়াহুড়ো নয় আগেই প্রয়োজনীয় উপকরণ গুছিয়ে নেয়া: পরীক্ষার দিন সকালে তাড়াহুড়োর মধ্যে পড়া উচিত নয়। তাই আজ বিকেলেই প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড), কলম, পেনসিল, জ্যামিতি বক্সসহ সব প্রয়োজনীয় জিনিস একটি স্বচ্ছ ফাইলে গুছিয়ে রাখা জরুরি।
পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই: পরীক্ষার আগের রাতে দেরি পর্যন্ত পড়াশোনা করলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মনে রাখার ক্ষমতা সচল রাখতে আজ রাতে সময়মতো ঘুমিয়ে পড়তে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম পরীক্ষার হলে সঠিক উত্তর মনে করতে বড় ভূমিকা রাখে।
কেন্দ্রে সময়মতো যাওয়া: যানজট বা অপ্রত্যাশিত বিপত্তি এড়াতে পরীক্ষার কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে।
ওএমআর শিট পূরণে সতর্কতা: রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর বৃত্ত ভরাট করার সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ভুল হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, দায়িত্বরত শিক্ষকের সহায়তা নিতে হবে।
প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখা: প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর উত্তর লেখা শুরু করার আগে ৫ মিনিট সময় নিয়ে পুরো প্রশ্নপত্রটি ভালো করে পড়ে নিতে হবে। কোন প্রশ্নগুলো আগে উত্তর দেওয়া যায়, তা মনে মনে ঠিক করে নিলে সময়ের সাশ্রয় হবে।
সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু: যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সবচেয়ে ভালো জানা, সেগুলো আগে লেখা উচিত। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পরবর্তী কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া সহজ হয়।
উত্তরপত্র পরিচ্ছন্ন রাখা: উত্তরে অহেতুক কাটাকাটি বা ঘষামাজা পরিহার করতে হবে। স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন হাতের লেখা পরীক্ষকের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শেষ মুহূর্তে রিভিশন: পরীক্ষা শেষ হওয়ার অন্তত ১০ মিনিট আগে লেখা সমাপ্ত করে পুরো উত্তরপত্রটি একবার মিলিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে রোল নম্বর বা ছোটখাটো ভুলগুলো এ সময়ে শুধরে নেয়া সম্ভব।
বাসায় ফিরেই উত্তর না মেলানো: এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা ঘরে ফিরেই প্রশ্নের উত্তর নিয় ব্যস্ত হয়ে যায়। আর যখন দেখে কিছু উত্তর ভুল হয়েছে তখন সে পড়াশোনার আগ্রহ কমে যায়। তাই পরীক্ষা দিয়ে এসেই উত্তর না মেলানো ভালো।
মনে রাখতে হবে পরিক্ষীর প্রস্তুতি কেমল পড়াশোনা নয়। বিশ্রাম, সময়ের সঠিক ব্যবহার আর নিজের আত্নবিশ্বাস ধরে রেখে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।