বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করার পর মোবাইল ফোন নম্বর রেখে যাচ্ছে চোর। সেই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে চাওয়া হচ্ছে টাকা। আর সেই মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ফেরত মিলছে চুরি যাওয়া মিটার। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাজার সংলগ্ন শালগড়িয়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
সেই গ্রামে একই রাতে ১১টি থ্রি-ফেজ বৈদ্যুতিক শিল্প মিটার চুরি হয়েছে। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এগুলোর অধিকাংশই শিল্প কলকারখানার মিটার।
এদিকে এমন ঘটনায় দুর্গাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়।
তবে এখন পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে মিটার চুরির সঙ্গে জড়িতরা।
স্থানীয়রা জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে মিটার চুরির পর সেখানে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোবাইল নম্বর। সেই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে চাওয়া হচ্ছে টাকা। টাকা দিলে তবেই মিলছে চুরি যাওয়া মিটার।
৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে চুরির মিটার ফেরত দিচ্ছে চোরচক্রের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী এজাজুল ইসলাম বলেন, মিটার চুরি যাওয়ার পরে চোর চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর পর তারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে ৫ হাজার টাকায় রাজি হলে সেই টাকা তাদের বিকাশ নম্বরে দেওয়া হয়। এরপর তারা ফোন কলে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বলে।
এরপর ওখান থেকে সংগ্রহ করি। তিনি তার প্রতিষ্ঠান হতে একটু দূরে আওড়ের পালার মধ্যে সেই মিটার পেয়েছেন।
ভুক্তভোগী আতাউর, সেলিম ও বুলবুল জানান, তারাও ঠিক একইভাবে মিটার প্রতি ৫ হাজার টাকা দিয়ে তাদের মিটার মিলেছে একটি হলুদ ক্ষেতের জমিতে।
তারা আরো বলেন, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই এই বিষয়ে। সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না। যেখানে মিটার চুরির পরে সেই মিটার চোর চক্রের সঙ্গে ভুক্তভোগী কথা বলছে, তারা ঠিক কথা বলছে, অথচ পুলিশ তাদের নেটওয়ার্কিং সিস্টেমে কিছুই করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে।