কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাজী মোঃ মোস্তাক গাউসুল ও তার স্ত্রীকে জমি জায়গা হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে বাড়ি ছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
গাউসুল ও তার স্ত্রী দাবি করেন, তার ছেলে মাহামুদুল হক তারেক এর সাথে দুবাই প্রবাসী রাবেয়া আক্তারের সাথে গত ২০১৬ সালে ২০ ডিসেম্বর ৬০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে হয় এবং রাবেয়া তালাকপ্রাপ্ত নারী ছিলেন এবং তার আগের স্বামীর ২ টি ছোট ছোট সন্তান সহ নিয়ে আসে আমাদের বাড়িতে। পারিবারিকভাবে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বনি বানাত না হলে পরে ২০১৯ সালে ২৯ শে জুলাই যৌথ তালাক হয়, কিন্তু এক মাসের ভিতরে আবার সংসার শুরু করলে যৌথ তালাক বাতিল হয়ে যায় । পরে আমার ছেলে ২০২৩ সালে ইউরোপের একটি দেশে চলে যায়। পরে ২০২৫ সালে দেশে এসে আবার রাবেয়া আক্তারের অত্যাচারের কারনে তাকে ডিভোর্স দেয়। কিন্তু ডিভোর্স দেওয়ার পরেও রাবেয়া আক্তার তার আগের স্বামীর দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িঘর ও জমি জায়গা দখল করে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে মেরে বের করে দিয়েছে। আমরা আইন ও প্রশাসনের কাছে বিচার পাইনাই। তাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে সঠিক তদন্তপূর্বক বিচার দাব কছি ।
এদিকে রাবেয়া আক্তার বলেন, আমি একজন দুবাই প্রবাসী ছিলাম, আমার স্বামীও দুবাই ছিলো সেখানে আমাদের ব্যবসা ছিলো। মাহামুদুল হক তারেক বাংলাদেশ থেকে দুবাই গিয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। সেখান থেকে তারেকের সাথে আমার পরিচয় হয়। আমার প্রথম স্বামী পারিবারিক কাজে বাংলাদেশ আসে এবং সে আরো একটি বিয়ে করে দেশে থেকে গেলে আমাকে মাহামুদুল হক তারেক বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়া আমার সরলতার সুযোগে প্রেমের ফাঁদে ফাঁসায়। সেখানে মাদক সহ ধরা পড়ে এবং ৯৯ বছরের জেল হয় সেখান থেকে অনেক টাকা খরচ করে আমি জেল থেকে বের করি তারেক কে । পরে সে আমাকে কৌশলে বাংলাদেশে তার দেশের বাড়ি কুষ্টিয়া মিরপুরে পাঠিয়ে দেয় এবং বিয়ে করে। দুবাই আমি একজন বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলাম সেখানে আমার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে সম্পদ ছিল। সে সকল সম্পদ নিয়ে আমি মাহমুদুল হক তারেকের বাড়িতে চলে আসি। আমার অর্থ সম্পদ কৌশলে তারেক ও তার পরিবারের লোকজন হাতিয়ে নেয়। আমি জানি স্বামীর সংসার তাই সরল বিশ্বাসে সকল সম্পদ দিয়ে দেয়।এবং ২০২৩ সালে আমার ও আমার বাচ্চা মেয়ের সকল স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে ইউরোপে পাঠায় মাহমুদুল হক তারেককে। ইউরোপে গিয়েই তার তারেক ও তারেকের পরিবারের লোকজনের আচরণ চেঞ্জ হয়ে যায় শুরু হয় আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন। পরে 2025 সালে মাহমুদুল হক তারেক দেশে এসে আবার একটি বিয়ে করে। এবং আমার এই দুই ছেলে-মেয়েসহ আমাকে আমার সকল অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এখন শুনছি নাকি আমাকে আবার ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে তবে আমি কোন কাগজ পাই নাই বিষয়টি সুস্থতা দ্বন্দ্ব করে আমি বিচার দাবি করছি।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী মজিবর রহমান, মনিরুল ইসলাম সুরুজ, হানিফ জোয়ারদার বলেন, রাবেয়া আক্তার দুবাই প্রবাসী ছিলেন, তিনি অনেক অর্থ সম্পদ নিয়ে এসেছিলেন তারেকের বাড়িতে। তার অর্থ সম্পদ কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে তাকে পথের ভিখারি করে ডিভোর্স দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না,একজন স্বামীর অধিকার আছে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়া, তবে কৌশলে তার সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে নয়। আমরা স্থানীয় এলাকাবাসী হিসেবে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান চাই।
এদিকে একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় মাহমুদুল হক তারেক তার স্ত্রীর রাবেয়া আক্তারকে বলছেন তোমার কাছে আমি ঋণী তোমার এই ঋণ পরিশোধ আমি করতে পারবো না।
এদিকে রাবেয়ার প্রথম স্বামীর দুই সন্তানের জন্ম সনদ স্কুল সার্টিফিকেট শুরু করে সকল জায়গাতে পিতার নাম মাহমুদুল হক তারেক, তারা বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী, তাদের জীবন নষ্টের জন্য তারাও বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে সুশীল সমাজের লোকজন দাবি করেন বিষয়টি সুস্থ সমাধান হওয়া উচিত।