মোটরসাইকেল না কিনে দিলে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলেন কলেজছাত্র আফতাব শাহরিয়ার মাহির (২০)। মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা ঘটে, এমনটি বুঝিয়েও ছেলেকে মানাতে না পেরে বাধ্য হয়ে তা কিনে দেন বাবা। কিন্তু মোটরসাইকেল পাওয়ার মাত্র ৪ মাসের মাথায় দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পরিবারের একমাত্র ছেলে মাহির।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর এলাকায় মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন মাহির।
নিহত আফতাব শাহরিয়ার মাহির নান্দাইল উপজেলার মুসল্লী গ্রামের আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। পরিবার সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন। ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে বাবার মুদিদোকানের ব্যবসায়ও সহযোগিতা করতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড় ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সকালে মোটরসাইকেলে করে হারুয়ার দিকে যাচ্ছিলেন মাহির। চরহোসেনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বেপরোয়া গতিতে চালানো মোটরসাইকেলটি সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মাহির ছিটকে সড়কের পাশে পড়েন। এতে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা জানান, মাহিরের বন্ধুদের অনেকেরই মোটরসাইকেল ছিল। তাই বাবার কাছে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার বায়না ধরেছিলেন, কিন্তু বাবা রাজি হননি। এতে অভিমানে খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়ে বাবার ব্যবসায় যাওয়া বন্ধ করে দেন। এমনকি বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত একমাত্র ছেলের জেদের কাছে হার মানেন বাবা। চার মাস আগে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। চার মাসের মাথায় সেই মোটরসাইকেল কেড়ে নিল মাহিরের প্রাণ।
ছেলের আবদার মিটাইতেই বাইকটা কিনে দিছিলাম, সেই আবদারই আজ আমার একমাত্র ছেলেকে চিরতরে কেড়ে নিল বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা।