মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রলপাম্পে গ্যাসোলিনের দাম হু হু করে বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের সংগঠন আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মাত্র এক মাস আগে ফেব্রুয়ারির শেষে যেখানে দাম ছিল ৩ ডলারের নিচে, সেখানে এত দ্রুত উল্লম্ফন নতুন করে চাপ তৈরি করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর সামরিক পদক্ষেপের পর জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠেছিল। এরও আগে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময় এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ২০২২ সালের মাঝামাঝি দাম ৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গ্যাসোলিনের দাম সবচেয়ে বেশি ক্যালিফোর্নিয়ায়, যেখানে তা গ্যালনপ্রতি ৫ দশমিক ৮৮ ডলার। এরপর রয়েছে হাওয়াই (৫ দশমিক ৪৫ ডলার) এবং ওয়াশিংটন (৫ দশমিক ৩৪ ডলার)।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে শঙ্কাই মূলত এই ঊর্ধ্বগতির কারণ। ইরান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বে মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম চড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে।
তবে আশার কথাও শোনাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সতর্ক করে দিয়েছেন সংকট দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপসহ জ্বালানি অবকাঠামোতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও তা এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম সামনে থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও দেশটি প্রধানত কানাডা ও মেক্সিকো থেকে তেল আমদানি করে, তবুও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের আন্তনির্ভরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব এড়ানো যাচ্ছে না।