ঢাকায় মশা নিধনে ব্যাবহৃত ওষুধ ল্যব পরীক্ষায় শতভাগ কার্যকর হলেও মাঠপর্যায়ে সঠিক প্রয়োগ, মেশিনের নজেল, বাতাসের বেগ ও মনিটরিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে সঠিক পদ্ধতিতে স্প্রে ও তদারকি বাড়ালে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
মশা নিধনে ছিটানো ওষুধ কার্যকর নয়, বিভিন্ন মহলে এমন অভিযোগের পর মাঠপর্যায়ে ওষুধ পরীক্ষা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। খামারবাড়ি এবং ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) ল্যাবে পরীক্ষার পর প্রয়োগ করা ওষুধ শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণ মিলেছে। তবে কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, ল্যাবে ওষুধের গুণগত মান ঠিক থাকলেও, মাঠপর্যায়ে সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় কমছে না মশার উৎপাত।
সন্ধ্যা নামতেই এই শহর রুপ নেয় মশার রাজত্বে। তখনই অভিযোগ ওঠে সিটি করপোরেশনের ওষুধের মান নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ে মশক কর্মীদের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে খামারবাড়ি এবং আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। উদ্দেশ্য ছিল মাঠ পর্যায়ে ছিটানোর আগে এর মান যাচাই করা। সপ্তাহখানেক পর সেই পরীক্ষার ফল মিলেছে। তাতে ওষুধগুলো মশা নিধনে শতভাগ কার্যকর বলে রিপোর্ট দিয়েছে সরকারি দুই ল্যাব।
এখন প্রশ্ন ওষুধ যদি শতভাগ কার্যকর হয়, তাহলে মশা কেন মরছে না? এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন কীটত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘উড়ন্ত মশা মারার জন্য যেটি ব্যবহার করা হয়, সেটি মাঠপর্যায়ে তেমন কার্যকর নয়। কারণ মাঠপর্যায়ে যে মেশিন দিয়ে এটি স্প্রে করা হয়, তার নজেল যে ড্রপলেট প্রডিউস করে সেটি যদি বাতাসের বেগ অনুযায়ী, সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময় পরপর প্রয়োগ করা না হয় এটি কার্যকর হবে না।’
সিটি করপোরেশন বলছে, ওষুধের মান নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এখন মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান।
ল্যাব রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত আমরা পেয়েছি। মশার ওষুধে কোনো সমস্যা নেই। তবে সমস্যা হলো মনিটরিংয়ের অভাব। ওষুধ ঠিক সময়ে ঠিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা সেটি যদি ঠিকভাবে মনিটরিং করা যায়, আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।’