সড়কের ওপর প'শু'র হাট,ভো'গা'ন্তি'তে শহরবাসী
রাজধানীতে ২৩টি হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। অথচ মোড়ে মোড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে বসেছে অসংখ্য অবৈধ হাট। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সড়কে, খালি মাঠে ও আবাসিক এলাকায় চলছে পশুর বেচাকেনা আর এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পুলিশ বলছে, সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের সামনের রাস্তাটি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি রাস্তা নাকি কোরবানির হাট। বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে কতটা ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
ভুক্তভোগী এক রোগীর আত্মীয় জানালেন, এখানে (অ্যাম্বুলেন্সের) সাইরেন বাজিয়ে ঢুকতেছি, ওরা বলতেছে সাইরেন বাজাবেন না, এখানে গরু আছে। পুরো রাস্তাটাই এখানেই জ্যাম। কয়েকটা গলি ঘুরে ঘুরে এখানে আসছি।
আরেকজন জানালেন, আমি বলেছি আমার জরুরি রোগী, আমার দ্রুত যেতে হবে, একটু জায়গা করে দেন। তাও তারা দিচ্ছে না। এটা বললে তারা সরে যাচ্ছে। আমার এখানে আসতে দেড় ঘন্টার মতো লেগে গেছে।
কেবল তেজগাঁও নয়, রাজধানীর বেশিরভাগ হাট এভাবেই মাঠ ছাপিয়ে দখল করেছে সড়ক। ফলে বেড়েছে যাত্রী দুর্ভোগ। এদিকে, উচ্ছেদের একদিন পর আবারও বসেছে আগারগাঁওয়ের অবৈধ হাট।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, রাস্তার ভেতর তো হাট বসতে পারে না, ইজারা নিতে পারে না। তাই না? গাবতলীসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকার হাটের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই না?
এমনই অবৈধ হাট বসেছে লালবাগের শহীদনগর, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, নবোদয় ও মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি, মিরপুর ৬০ ফিটসহ রাজধানীর নানা জায়গায়। নামে-বেনামে বসানো হয়েছে এসব অবৈধ হাট। তবে হাট কর্তৃপক্ষ বলছে, হাটের কারণে কারো কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তাদের ভলান্টিয়াররা যথাযথ নিয়ম মেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখছেন।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ইজারা ছাড়া ও নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে হাট বসানোর সুযোগ নেই। কিন্তু কারো কোনো তদারকি চোখে পড়েনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেঁজগাও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জুয়েল রানা জানান, তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো হাটের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা থাকলে তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।