সীমান্তে বিজিবির স'ঙ্গে গ্রামবাসীর পা'হা'ড়া
ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন'’ ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় পাহারায় অংশ নিয়েছেন।
লাঠিসোঁটা, বাঁশি ও সার্চলাইট নিয়ে রাতভর সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে থাকছেন তারা।
সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইন চেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মেহেরপুর সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির টহল কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।
মেহেরপুর জেলার তিন দিকজুড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চুয়াডাঙ্গা-৬ ও কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছেন।
বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীও সীমান্ত পাহারায় সক্রিয়।
অনেককে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে টহলে অংশ নিতে দেখা গেছে।
সীমান্তের ওপারে কয়েকটি স্থানে ভারতীয় ভূখণ্ডে লোকসমাগমের তথ্য পাওয়ার পর সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, যেসব এলাকায় পুশ-ইনের আশঙ্কা বেশি থাকে, সেসব স্থানে অনেক সময় ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার সংলগ্ন আলোগুলো নিভিয়ে রাখা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত টহল, পর্যবেক্ষণ এবং সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন মেহেরপুর সীমান্তে ১৯টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) ও একটি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) থেকে প্রতিদিন ৮১টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কাথুলি গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী বলেন, এই দেশ আমাদের, দেশরক্ষার দায়িত্বও আমাদের। বিজিবির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা গ্রামবাসী সীমান্ত পাহারায় অংশ নিয়েছি।
কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে বিজিবির সঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করবো।
কাজিপুর সীমান্ত এলাকার স্কুলশিক্ষক তানজুমান হোসেন বলেন, প্রতি রাতেই সাধারণ মানুষ বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি করছেন। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমান্তবাসী সবসময় সচেতন ও প্রস্তুত।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল আহসান বলেন, সীমান্ত রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্প্রতি বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে, ৪৭ বিজিবি কৃষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মেহেরপুরের ৯৭ কিলোমিটার সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাভুক্ত।
সীমান্ত এলাকায় এখন পাটক্ষেত থাকায় দূর থেকে দেখতে অনেকটা সমস্যা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তের কাছে যে সকল আবাদি জমি রয়েছে, সেই কৃষকদের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার আহবান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের চোরাচালান, পুশইন যাতে না হয়-এ কারণে স্থানীয়রা দলে দলে বিজিবির সাথে পাহারায় যোগ দিয়েছেন।
আশা করবো, সীমান্ত দিয়ে আর কোনো অবৈধ পুশ-ইন এবং মাদক না আসে।