গড়াই নদীর সেতুতে টোল ফেরানোর চেষ্টা: তোপের মুখে প্রশাসনের বৈঠক পণ্ড টোলের নামে চাঁদাবাজি চলবে না': কুষ্টিয়ায় উত্তাল জনতা
২০ মাস পর টোল চালুর উদ্যোগ কুষ্টিয়ায়: ছাত্র-জনতার আল্টিমেটাম।
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীতে অবস্থিত সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুতে দীর্ঘ ২০ মাস পর পুনরায় টোল চালুর উদ্যোগ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি বৈঠক জনতা ও স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পণ্ড হয়ে যায়। তোপের মুখে কর্মকর্তারা দ্রুত টোলপ্লাজা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই এই সেতুতে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) পুনরায় টোল আদায়ের লক্ষ্যে দরপত্র আহবান করে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পুনরায় টোল চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই প্রক্রিয়া তদারকি করতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সওজের একটি প্রতিনিধি দল টোলপ্লাজা পরিদর্শনে আসে। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা যখন টোলপ্লাজা কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বসেন, ঠিক তখনই কয়েকশ জনতা ও সিএনজি চালক সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা 'টোলের নামে চাঁদাবাজি চলবে না' এবং বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় কর্মকর্তারা গাড়ি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
কুমারখালী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা জানান, এটি তাদের এক দফা দাবি এই সেতুতে আর কোনোদিন টোল চালু করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মনজুর আলম চুন্নু বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে টোল চালুর সিদ্ধান্ত চালকদের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মাসে টোল বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। সম্প্রতি ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় আগামী ৩ বছরের জন্য 'মেসার্স থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস' টোল আদায়ের কাজ পেয়েছে। ১০ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আদায়ের কথা রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম জানান, ইজারা সম্পন্ন হয়েছে এবং ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায় কার্যক্রম শুরুর কথা।
তবে বিক্ষোভের বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের দাবিদাওয়া নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত হয়। এই সেতু ইজারা থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। এই সেতুটি ঢাকা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুরসহ বরিশাল বিভাগের সাথে সংযোগের প্রধান মাধ্যম।