একটি বিদ্যালয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অর্ধশত ছাত্রী পাবনার ঈশ্বরদীর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরের পর উপজেলার মুলাডলি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ ছাত্রীদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন স্কুল ক্যাম্পাস থেকে এক বোতল উকুননাশক ওষুধ ‘ভারা সলিউশন’ উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের আন্তবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৫৬ জন ছাত্রী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
ছাত্রীদের অসুস্থতা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসনা রানি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে স্কুলে দুজন ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরেই একে একে অন্য ছাত্রীরা অসুস্থ হতে থাকে। তাদের অনেকেরই নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এই অবস্থায় ছাত্রীদের অসুস্থতার খবর ইউএনও এবং থানার ওসিকে জানানো হয়। ঘটনা শুনে তাঁরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। বিকেল পর্যন্ত অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই স্কুলের ছাত্রীরা জানায়, ক্লাস করার সময় হঠাৎ কোনো রাসায়নিক পদার্থের ঝাঁঝালো গন্ধ অনুভব করে তারা। এরপর পেটব্যথায় দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আখি আক্তার রিতু বলে, ‘আমরা স্কুলের দ্বিতীয় তলায় ছিলাম। হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে স্যার আমাদের নিচে নেমে আসতে বলেন। নিচে নেমে আসতেই কেমন যেন একটা গন্ধ অনুভব করি। তখন আমার প্রচণ্ড খারাপ লাগছিল। দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এমন অবস্থা আমার মতো অনেকেরই হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’
খবর পাওয়ার পরপরই আমরা হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে অসুস্থ ছাত্রীদের খোঁজখবর নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা একে একধরনের হিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন। তবু বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।
স্কুলে উদ্ধার হওয়া যে বোতলের ছবি দেখা গেছে, তাতে ‘ভারা সলিউশন’ লেখা ছিল। এটি মূলত ডাইমেথিকনের ৯২ শতাংশ দ্রবণ, যার রাসায়নিক নাম পলিডাইমিথাইলসিলক্সেন, যা সাধারণত উকুননাশক ও প্রসাধনী পণ্যে ব্যবহৃত হয়। এর স্প্রে থেকে শ্বাস নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানান ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জাহিদুল ইসলাম।