নরসিংদীর মাধবদীতে ফোনের পরিচয় সূত্রে দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শি কার ৪ সন্তানের জননী।
৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দার একটি মাছের খামারের পুকুর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
৬ মার্চ শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী নরসিংদীর মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিকেলে ঘটনায় জড়িত রিদয় মিয়া (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধর্ষণের শিকার নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা।
বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করেন।
গ্রেপ্তার রিদয় মিয়া মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকালে ভুক্তভোগী নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার মার্কেটে ঈদের শপিং করতে যায়। মেয়েকে ঈদের জামা কিনে ইফতারের আগেই বাসায় পাঠিয়ে দেয়।
গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল নাম্বারে কথাবার্তা হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার মার্কেটে এসেছে রিদয় জানতে পেরে দেখা করতে চায়। পরে ভুক্তভোগী নারী একাই অটো যোগে রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যায়। সেখানে রাস্তায় রিদয়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হলে রিদয় ভুক্তভোগী নারীকে রাস্তা থেকে পুকুর পাড়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও অজ্ঞাতনামা ৩ জন ছেলে ভুক্তভোগী নারীকে পুকুর পাড়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়ে ধর্ষকরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। পরে ওই নারী তাৎক্ষণিক দৌড়ে পাশেই থাকা একটি পাওয়ার লোম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং তাদের ঘটনার বিষয়টি জানায়। পরে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
নরসিংদীর মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানাকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে নরসিংদীর মধ্যে ঘটনা হওয়ায় আমাদের জানালে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কারো নাম বলতে পারেনি। শুধু মোবাইলের নাম্বারের সূত্র ধরে অভিযুক্ত রিদয়কে আমরা গ্রেপ্তার করি। সে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
নরসিংদীর মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামাল হোসেন তিনি আরও বলেন, আমরা বাকিদের পরিচয়ও শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আর আসামিকে শনিবার (৭ মার্চ) আদালতে পাঠানো হবে।