ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি নদীর ৮০ ফুট পানির নিচ থেকে উদ্ধাকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে তোলা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধার কাজ চলছে। সংস্থাটি আরও জানায়, বাসটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে চালক ও হেল্পারও ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার দিকে ছেড়ে যায়। এতে কুমারখালী থেকে শিশুসহ আট জন যাত্রী উঠেছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়িটি উল্টে নদীতে পড়ে যায়।
কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা ঈদের ছুটি কাটিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।
কুষ্টিয়ার খোকসা থেকে বাসে ওঠেন দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী এবং ছেলে ইসরাফিল (৩), যিনি এখনও নিখোঁজ।
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস) আরও ওই বাসে ছিলেন। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। তাদের মধ্যে স্ত্রী আয়েশা ও সন্তান আরশান নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া গিয়াস উদ্দিনের কন্যা আয়েশাও এখনো পানির নিচে রয়েছে।
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী কাউন্টার মাস্টার তন্বয় আহমেদ জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৬টি সিটে শিশুসহ ৮ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে যায়। খোকসা থেকে আরও ৩ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন, পাংশা থেকে ১৫ জন ও চালক-হেল্পারসহ মোট ৫০ জন ছিলেন। ৪০ সিটের বাসে অতিরিক্ত যাত্রী থাকা এবং ব্রেক ফেল করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে উঠে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।বলে জানান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা।