বাগেরহাটের রামপালে বিএনপি নেতার বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরি: নগদ টাকা ও স্বার্ণালঙ্কার লুট
এ এইচ নান্টু, নিজস্ব প্রতিবেদক || বাগেরহাটের রামপাল সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোয়াইব হোসেন সোহেলের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় চোরেরা বাড়ীর একাধিক গ্রীল কেটে ও পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে বিপুল পরিমাণ স্বার্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটে নিয়েছে। রামপাল থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাড়ির মালিক ও বিএনপি নেতা সোয়াইব ইসলাম সোহেল জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিনগত রাতের কোন এক সময় দুর্বৃতরা বাড়ির নিচের তলার ও দোতলার গ্রীল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার মা রশিদা বেগম (৭০), তার ছোট ভাই আবু বকার সিদ্দিক রাজু ও কাজের বুয়া রোজিনা বেগম (৫০) বাড়িতে ছিলেন। চোরেরা দুধের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে অজ্ঞান করে। পরে তারা গভীর রাতে ঘরের গ্রীল, দরজার কড়া ও আলমারি ভেঙ্গে মালামাল তসনস করে। ওই সময় চোরেরা বিপুল পরিমাণ স্বার্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। বিএনপি নেতা সোয়াইব ইসলাম সোহেল আরো জানান, চোরেরা যাওয়ার সময় তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। পরে গাড়িটি ফয়লাহাট এলাকায় পাওয়া যায়। এ সময় গুরুতর অসুস্থ রাশিদা বেগম ও বুয়া রোজিনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর অসুস্থ রাজুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সভাপতি তুহিন জানান, ঘটনাটি খুবই দুুঃখজনক। আমরা পুলিশের দৃষ্টি আকর্শন করে জানাচ্ছি যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্বৃতদের ধরার দাবিসহ মালামাল উদ্ধারের দাবি করছি।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি মো. রাজিব আল রশিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।
উল্লেখ, গত এক বছরের মধ্যে ওই এলাকায় মোট ৩ বার এমন ঘটনা ঘটেছে। এর পূর্বে বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিনের বাড়ীতে এবং পার্শবর্তী মুক্তিযোদ্ধা আ. মান্নানের বাড়িতে একইভাবে চুরির ঘটনা ঘটে। সে সময় চোরেরা কোটি টাকা মূল্যের স্বার্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তবে এখনও পর্যন্ত একটি ঘটনারও তথ্য উদ্ঘাটিত হয়নি।