ইবিতে বিভাগীয় প্রধানকে গলা কেটে হ”ত্যা পর ঘাতক নিজে নিজে আ”ত্ম’হত্যার চেষ্টা
তিতাস আহম্মেদ
৪ মার্চ, ২০২৬কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বেতনসংক্রান্ত বিরোধ ও বিভাগ পরিবর্তনের জেরে সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া লুনাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে নিজ কক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা সাদিয়া লুনা নিজ দপ্তরে কাজ করছিলেন। এসময় ফজলু নামের ওই কর্মচারী আকস্মিক তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষকের গলায় আঘাত করেন। লুনার চিৎকার শুনে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অধ্যাপক লুনাকে আঘাত করার পরপরই ফজলু একই অস্ত্র দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার নেপথ্যে কারণ
প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ফজলুর বেতনসংক্রান্ত কিছু জটিলতা এবং এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলি হওয়া নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম জানান, “আহত ফজলুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁর গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে, বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।