• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মধ্যপ্রাচ্যের যু’দ্ধে’র ধা’ক্কা’য় বাড়ছে অ’র্থনৈ’তি’ক ঝুঁ’কি : বিশ্বব্যাংক হাসপাতালে খা’বা’র সরবরাহে অ’নি’য়’মের অ’ভি’যো’গ হাসপাতালে খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ  ম’য়’লা বা’ণি’জ্যে’র নি’য়’ন্ত্র’ণ নিতে হা’ম’লা–ভা’ঙ’চু’র! পুলিশ সদস্যকে মা’র:ধ’র, মু’চ’লে’কা’য় ছাড়া পেলেন সাবেক ছা’ত্রদ’ল নে’তা বটতৈলে মফিজের দা’প’ট, খুঁ’টি’র জোর কোথায়? বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক মফিজ এর খুঁ’টির জো’র কোথায় ব্যাগ ধরে টা’ন ছি’ন’তা’ইকা’রী’র, রিকশা থেকে পড়ে প্র’ধান শিক্ষিকার মৃ”ত্যু গাংনীর বামন্দীতে সোহাগ পিভিসি সল্যুশনসের শুভ উদ্বোধন মেহেরপুরে ন’ক’লে’র ভিডিও করতে গিয়ে পরীক্ষার্থী–শিক্ষকদের মা’র’ধ’রে আ’হ’ত ২ সাংবাদিক

মধ্যপ্রাচ্যের যু’দ্ধে’র ধা’ক্কা’য় বাড়ছে অ’র্থনৈ’তি’ক ঝুঁ’কি : বিশ্বব্যাংক

notuntimes / ১৯ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি : বিশ্বব্যাংক

জ্বালানি সংকট থেকে কর্মসংস্থান—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাড়ছে বাংলাদেশের ঝুঁকি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন, কমছে সার উৎপাদন। বাড়ছে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের দাম, কৃষি, মানুষের আয়-রোজগার এবং কর্মসংস্থানে।

সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করেছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি বছর দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল—এমন মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের এক মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূল্যায়নটি করা হয়।

দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন ১২ লাখ

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। তবে যুদ্ধের প্রভাবে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে।

অর্থাৎ, যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, চলতি বছর দেশে দারিদ্র্য বাড়ার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা থাকবে প্রায় ১০ শতাংশ।

বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

জ্বালানির বাড়তি দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত বলেও তিনি মনে করেন।জ্বালানি খাতে বাড়ছে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। তবে দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।

বাড়ছে সরকারের ভর্তুকির চাপ

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।

এতে সরকারের অন্য খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

সার উৎপাদনে গ্যাস সংকট, ঝুঁকিতে কৃষি

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকেরা।

বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন।

এরই মধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতেও বাড়ছে ব্যয়

জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য খাতেও। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়।

দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানি করে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বাড়লে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়তে পারে।কর্মসংস্থানেও পড়ছে প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি সংকটই নয়; কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্নআয়ের মানুষকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!