ইবি শিক্ষক রুনা হত্যায় কর্মচারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
তিতাস আহম্মেদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্বামী মো. ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এই অভিযোগ জমা দেন।
দায়েরকৃত অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী ও তিনজন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—
ফজলুর রহমান (বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী) (প্রধান অভিযুক্ত), বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস (সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার),শ্যাম সুন্দর সরকার(সহকারী অধ্যাপক),মো. হাবিবুর রহমান: সহকারী অধ্যাপক)
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত শিক্ষকের স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানাজা ও দাফন শেষে নিহতের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্বজনরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গত বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন আসমা সাদিয়া রুনা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান আকস্মিকভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে হামলাকারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। একজন মেধাবী শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানকে এভাবে হারানোর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।