আ’ধি’প’ত্য বি’স্তা’র’কে কে’ন্দ্র বিএনপি-জামায়াতের ধা’ও’য়া-পা’ল্টা ধা’ওয়া, ক’ক’টে’ল বি’স্ফো’র’ণ
গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে পান হাটি নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে বিএনপি-জামায়তের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ি উপজেলার পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা পানহাটিতে এ ঘটনা ঘটে।
পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ৫ আগস্টের পরে বেশ কিছুদিন থেকেই পানহাটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এরআগেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। একই সূত্র ধরে আজ সকালেও উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা হয়। ককটেল বিস্ফারণে পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট শিমুলতলা এলাকার পানহাটি সংলগ্ন পলাশবাড়ি-ঘোরাঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুই দিকে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেয়। এসময় হাতে দেশীয় অস্ত্র (হাসুয়া), বাঁশের লাঠি নিয়ে নারায়ে তাকবির-আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করতেও শোনা যায়। একই সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফারণ ঘটানো হলে পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষকে দিক-বিদিক ছুটতেও দেখা যায়।
অন্যদিকে পানহাটিতে থাকা দুটি গাছ এবং হাটের কয়েকটি পানের দোকান (ছাউনি) ভাঙার ঘটনাও ঘটেছে।
সকালে পানহাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে, ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।বলে জানান পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান।
প্রসঙ্গত, এই পানহাটির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২০ মে বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল বুকে চোট পেয়ে আহত হন এবং ৩০ মে ভোররাতে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পরে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে সামিউলের মৃত্যুকে বিএনপির ওই সংঘর্ষকে দায়ী করা হলেও পরে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে, তার আগে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষ থেকেই পলাশবাড়ি থানায় মামলা করা হয়।